একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য চিত্রশিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট নাট্যকার, অভিনেতা ও নির্দেশক মামুনুর রশীদ। তিনি বলেন, মুস্তাফা মনোয়ার কেবল একজন শিল্পী ছিলেন না, তিনি ছিলেন একটি প্রজন্মের শিক্ষক, পথপ্রদর্শক এবং উচ্চ রুচির এক অসাধারণ মানুষ।
দেশের প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী, পাপেটশিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বিশিষ্ট নাট্যকার, অভিনেতা ও নির্দেশক মামুনুর রশীদ বলেছেন, ‘মুস্তাফা মনোয়ার আমাদের গুরু। তিনি কেবল একজন শিল্পী নন, ছিলেন উচ্চ রুচির একজন দারুণ ব্যক্তিত্ব।’
তিনি বলেন, ‘তার কাছ থেকে আমরা অনেক কিছু শিখেছি। শিল্প, সংস্কৃতি, সাহিত্যসহ অসংখ্য বিষয়ে তার জ্ঞান ছিল বিস্ময়কর। তিনি আমাদের শিল্পের গুরু ছিলেন।’
‘মন্টু ভাই’ ছিলেন স্নেহময় মানুষ
মামুনুর রশীদ জানান, তিনি স্নেহভরে মুস্তাফা মনোয়ারকে ‘মন্টু ভাই’ বলে ডাকতেন।
তার ভাষায়, ‘তার কাছ থেকে যে ভালোবাসা ও স্নেহ পেয়েছি, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেলেও তার সৃষ্টিকর্ম ও অবদান দেশের মানুষ আজীবন মনে রাখবে।’
স্বাধীন বাংলা বেতারের স্মৃতি
১৯৭১ সালের স্মৃতিচারণ করে মামুনুর রশীদ বলেন, স্বাধীন বাংলা বেতারে কাজ করার সময় মুস্তাফা মনোয়ারের আরও কাছাকাছি আসার সুযোগ হয়েছিল। তখন তিনি উপলব্ধি করেন, মুস্তাফা মনোয়ার শুধু একজন অসাধারণ শিল্পীই নন, একজন অসাধারণ মানুষও ছিলেন।
তিনি জানান, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তার লেখা ‘পশ্চিমের সিঁড়ি’ নাটকটি কলকাতায় মুস্তাফা মনোয়ারের নির্দেশনায় মঞ্চস্থ হওয়ার কথা ছিল। তবে দেশ স্বাধীন হয়ে যাওয়ায় পরে বাংলাদেশে ফিরে নাটকটি মঞ্চে আনা হয়।
বাংলাদেশের জলরঙের চিত্রকলার অন্যতম পথিকৃৎ
মুস্তাফা মনোয়ারের শিল্পীসত্তা সম্পর্কে মামুনুর রশীদ বলেন, বাংলাদেশে জলরঙের চিত্রকলায় তার সমকক্ষ শিল্পী খুবই কম।
তিনি বলেন, ‘তিনি ছিলেন একজন পূর্ণাঙ্গ শিল্পী। একই সঙ্গে উচ্চ রুচির একজন মানুষ। ধীরে ধীরে আমরা সেই মানুষদের হারিয়ে ফেলছি, যারা আমাদের পথ দেখিয়েছেন।’
শিশুদের জন্য ছিল বিশেষ ভালোবাসা
মামুনুর রশীদ বলেন, শিশুদের জন্য মুস্তাফা মনোয়ারের কাজ ছিল অনন্য।
তার মতে, ‘তিনি শিশুদের নিয়ে গভীরভাবে ভাবতেন। শিশুদের জন্য অসংখ্য সৃষ্টিশীল কাজ করেছেন। তার মন অনেক বড় ছিল বলেই তিনি শিশুদের জন্য এত সুন্দর সৃষ্টি রেখে যেতে পেরেছেন।’
অপূরণীয় ক্ষতি
মামুনুর রশীদ বলেন, দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যু দেশের শিল্প-সংস্কৃতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।
তিনি আরও বলেন, ‘তিনি গান নিয়েও নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। তাকে নিয়ে বলতে গেলে অনেক সময় লাগবে। আমি বিশ্বাস করি, তিনি তার কর্মের মধ্য দিয়েই মানুষের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবেন।’
আপনার মতামত লিখুন :