সম্মানিত সাংবাদিক এবং সুধীবৃন্দ। আসসালামু আলাইকুম, আমরা বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার পরিষদ, একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে মানববন্ধন করছি, আপনারা জানেন যে, বাংলাদেশ একটি ধর্মপ্রাণ মুসলিম দেশ,প্রায় ৭০০ বছর আগে ইসলাম প্রচারের জন্য ইসলামী ব্যক্তিত্ব আধ্যাতিক মনিষী হযরত শাহজালাল, শাহপরান, শাহমাখদুম, খানজাহান আলী সহ অগণিত ইসলাম প্রচারক এদেশে ইসলাম প্রচারের জন্য আসেন।
তাদের অবর্তমানে এক শ্রেণীর মানুষ তাদের উত্তরসূরী এবং বংশধর দাবি করে মাজার-দরগা, খানকা শরীফের দাবিদার হয়ে খাদেম সেজে, ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির প্রকাশ দান সদকা যা মাজার দরবার শরীফ দান খয়রাত করছে অধিকাংসই সদকা টাকা পয়সা গরু-ছাগল টাকা নিজেদের মতো করে হিসাব নিকাশ বাদে কোনরকম স্বচ্ছতা ছাড়াই ভোগ দখল করে আসছে এবং বিলাস বহুল জীবন যাপন করছে।
সম্প্রতি সিলেট শাহজালাল রহমাতুল্লাহির মাজারে সে সময়কার জেলা প্রশাসক মোঃ সরোয়ার আলম মাজারের ডেগ/দান বাক্স সিলগালা করে দেন এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিনটি সীলগালা দানবাক্স স্থাপন করেন। এই সিলগালা করার কারণে স্বার্থান্বেষী মহলের স্বার্থের ব্যাঘাত ঘটায় জেলা প্রশাসক মোঃ সরোয়ার আলম কে সিলেট থেকে বদলির ব্যবস্থা করেন, এরকম পরিস্থিতির মধ্যেও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সরোয়ার আলম তিনটি দান বক্স ও সিলগালা করার ডেকগুলি এবং তিনটি দান বক্স ও সিলগালা করার ডেকগুলি প্রশাসনের এবং স্থানীয়দের উপস্থিতিতে খোলার ব্যবস্থা করেন এবং টাকা/সম্পদ গণনা করেন সেখানে দেখা যায় তিন দিনে ১৭লাখ৬৫ হাজার নগদ টাকা সহ ১৮ লক্ষ টাকার বেশিজমা পড়েছে, এই সমস্ত টাকা জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সোনালী ব্যাংকে একাউন্ট খুলে গচ্ছিত রাখা হয়েছে।
মাজারে আয় ব্যায় যে অসঙ্গতি রয়েছে তা স্পষ্ট হয়েছে মন্ত্রী আরিফুল হক সাহেবরে বক্তব্য, তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, জেলা প্রশাসক আমাদের চোখ খুলে দিয়েছেন। সচেতন মহল এবং বিজ্ঞজনেরা এই তিন দিনের হিসাব মতে এক বৎসরের জমা ১৬ কোটি ৬০ লক্ষ টাকার বেশি বলে উল্লেখ করেন। তাছাড়া ওয়াজ মাহফিল, উরছ বা অনুষ্ঠানাদি হয় সে সময় আরো বেশি টাকা পয়সা জমা পড়ে। আমরা বাংলাদেশের জনগণ এবং বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি যে, বাংলাদেশ হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত দরগা, খানকা, মাজার শরীফ সকলের আয়-ব্যায় হিসাব নেয়া হোক এবং কোন অসঙ্গতি থাকলে তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি এবং স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি জব্দ করে সরকারের কোষাগারে নেয়া হোক।
আমরা এই মানববন্ধন থেকে সারাদেশের মাজার, দরবার শরীফ পরিচালনার জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে এবং স্থানীয়ভাবে বিজ্ঞ অভিজ্ঞ ইসলামী ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ব্যক্তিদের দিয়ে কেন্দ্রীয় এবং পরিচালনা পর্ষদ গঠন প্রস্তাব করছে, কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদ ১০ এবং ৮ সদস্য বিশিষ্ট একজন ইসলামী এবং আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত বিশ্ববিদ্যালয় অথবা আলিয়া মাদ্রাসা অধ্যাপক/ প্রিন্সিপাল, দুইজন ইসলামী ব্যক্তিতিত্ত সম্পন্ন, আলেম ওলামা এবং অন্যান্যদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হোক। সাম্প্রতিক বাগেরহাট জেলার খানজাহান আলী (রঃ) মাজারে শিশু কন্যা কুমির দ্বারা নিহত হয়। জানা যায় ওই শিশুর মা মানসিক অসুস্থ হয়ে এক বছর ওই মাজারে শিশুটিকে নিয়ে অবস্থান করে আসছেন। ওই সময়ে খাদেম দাবিদার অথবা সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বার, জেলা প্রশাসন কারোই কি নজরে আসেনি। মানসিকভাবে অসুস্থ কন্যাটির মাকে চিকিৎসা দেয়ার কোন ব্যবস্থা করেনি কেন? জনগণ সেটি জানতে চায়। এই অবস্থায় কন্যা শিশুটি হত্যার দায়-দায়িত্ব এই সমস্ত ব্যক্তিবর্গের উপর বর্তায় বলে জনগণ মনে করে বিধায় তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা এবং নিহত শিশুর মায়ের সু-চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানাচ্ছি।
আপনার মতামত লিখুন :