আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : জুলাই ৫, ২০২৬, ১২:০৫ অপরাহ্ন

​ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায়ে রাজধানী তেহরানে লাখ লাখ মানুষের এক অভূতপূর্ব জনসমাগম ও আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
খামেনির জানাজায় সমবেত বিশাল জনতার এই গভীর শোক এবং ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ দেখে তীব্র বিস্ময় প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস (Axios)-কে দেওয়া একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি খোলাখুলিভাবে নিজের এই বিস্ময়ের কথা স্বীকার করেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উল্লেখ করেন যে, তিনি এর আগে ভাবতেন ইরানের সাধারণ মানুষ খামেনিকে তীব্র ঘৃণা করে, কিন্তু জানাজায় লাখো মানুষের অশ্রুসজল উপস্থিতি এবং শোকের আবহ তাকে সম্পূর্ণ অবাক করেছে। ট্রাম্পের ভাষায়, “আমি ভেবেছিলাম খামেনিকে মানুষ ঘৃণা করে, কিন্তু এত মানুষকে কাঁদতে দেখে আমি বিস্মিত হয়েছি।”
​সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, মার্কিন সামরিক শক্তির মাধ্যমে চাইলে জানাজায় উপস্থিত সকলকে ‘নির্মূল’ করার সম্পূর্ণ সক্ষমতা তাদের ছিল। তবে তারা তা করা থেকে বিরত থেকেছেন, কারণ তার মতে, জানাজায় উপস্থিত সবাইকে ধ্বংস করে দিলে পরবর্তী সময়ে আলোচনার জন্য অন্য কোনো পক্ষ অবশিষ্ট থাকত না। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, খামেনির জানাজা এবং আনুষ্ঠানিক শেষ বিদায় সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পারস্পরিক অনানুষ্ঠানিক আলোচনার মাধ্যমে সাময়িকভাবে সংঘাত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এই নির্ধারিত জানাজাকালীন সময়ে দুই পক্ষই একে অপরের ওপর কোনো ধরনের সামরিক আক্রমণ বা সহিংসতা চালানো থেকে বিরত থাকে।
​এর আগে, গত শনিবার রাজধানী তেহরানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা সম্পন্ন হয়, যেখানে অংশ নিতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে সব স্তরের লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মানুষ সমবেত হন। জানাজায় অংশ নেওয়া সাধারণ নাগরিকদের মাঝে পারিবারিক অভিভাবক হারানোর চেয়েও গভীর ট্র্যাজেডির বেদনা লক্ষ্য করা যায়। একই সাথে সমবেত বিশাল এই জনতার কণ্ঠে ছিল তীব্র ক্ষোভ এবং এই হত্যাকাণ্ডের জন্য সরাসরি দায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ও কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার এক দৃঢ় প্রত্যয়।