২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচে রোববার দিবাগত রাতে মুখোমুখি হবে ব্রাজিল ও নরওয়ে। তবে ম্যাচের ফলাফলের পাশাপাশি ফুটবলপ্রেমীদের নজর থাকবে দুই তারকা ফুটবলার—আর্লিং হালান্ড ও গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েসের লড়াইয়ে।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ম্যানচেস্টার সিটি ও আর্সেনালের হয়ে খেলতে গিয়ে বহুবার উত্তপ্ত দ্বৈরথে জড়িয়েছেন এই দুই ফুটবলার। সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবার আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে দেখা যাবে।
প্রিমিয়ার লিগের প্রতিদ্বন্দ্বিতা
২০২২ সালে হালান্ড ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই গ্যাব্রিয়েলের সঙ্গে তার লড়াই আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
২০২৩ সালে আর্সেনালের বিপক্ষে ম্যাচে গোল করে দলকে জয় এনে দেন হালান্ড। পরে দুই দলের লড়াই আরও উত্তপ্ত হয়।
২০২৪ সালে ইতিহাদ স্টেডিয়ামে ২-২ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচে স্টোন্সের শেষ মুহূর্তের গোলের পর হালান্ড বল ছুড়ে মারেন গ্যাব্রিয়েলের মাথার পেছনে। ম্যাচ শেষে আর্সেনাল কোচ মিকেল আরতেতাকে উদ্দেশ করে “স্টে হাম্বল” মন্তব্য করেও সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি।
ফিরতি লড়াইয়ে আর্সেনাল ৫-১ ব্যবধানে জয় পেলে গোল উদযাপনের সময় হালান্ডের সামনে গিয়ে উল্লাস করেন গ্যাব্রিয়েল। পরে তিনি জানান, সেটি ছিল মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতারই অংশ।
সংখ্যায় হালান্ড–গ্যাব্রিয়েল
এ পর্যন্ত প্রিমিয়ার লিগে দুজন মুখোমুখি হয়েছেন ৮ বার।
একসঙ্গে মাঠে ছিলেন: ৭০৬ মিনিট
ব্যক্তিগত ডুয়েল: ২৬টি
হালান্ড জিতেছেন: ১৬টি
গ্যাব্রিয়েলের ফাউল: ৪টি
হালান্ডের ফাউল: ৩টি
গত মৌসুমে এক ম্যাচে গ্যাব্রিয়েলের টানাটানিতে হালান্ডের জার্সি ছিঁড়ে যাওয়ার ঘটনাও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
মাঠের বাইরে পারস্পরিক সম্মান
প্রতিদ্বন্দ্বিতা যতই তীব্র হোক, মাঠের বাইরে একে অপরের প্রতি সম্মান দেখান দুজনই।
গ্যাব্রিয়েল এক সাক্ষাৎকারে মজা করে হালান্ডকে “ওই বদমাশটা” বললেও তার বিপক্ষে খেলতে ভালো লাগে বলে জানান। অন্যদিকে হালান্ডও স্বীকার করেছেন, গ্যাব্রিয়েলের বিপক্ষে খেলাটা সব সময়ই বড় চ্যালেঞ্জ।
ম্যাচের গুরুত্ব
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ব্রাজিলের আক্রমণভাগের সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করবে হালান্ডকে কতটা কার্যকরভাবে থামানো যায় তার ওপর। অন্যদিকে নরওয়ের গোলের বড় ভরসা হালান্ডের সামনে থাকবে গ্যাব্রিয়েলের কঠিন চ্যালেঞ্জ।
এই ব্যক্তিগত দ্বৈরথে যে এগিয়ে থাকবে, ম্যাচের ফলেও তার বড় প্রভাব পড়তে পারে।
আপনার মতামত লিখুন :