মালয়েশিয়া শ্রমবাজারে অনিয়ম: সাবেক এমপিদের ৪টিসহ ৪৯ রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : জুলাই ২১, ২০২৬, ১:২০ অপরাহ্ন

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে অনিয়ম, অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং সিন্ডিকেটের অভিযোগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় পরিচালিত কয়েকজন সাবেক সংসদ সদস্যের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানসহ মোট ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

রোববার জারি করা প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩ এবং সংশোধিত আইন, ২০২৩ অনুযায়ী রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র গৃহীত হওয়ায় জনস্বার্থে তাদের লাইসেন্স প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বাতিল হওয়া এজেন্সিগুলোর মধ্যে রয়েছে সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের পরিবারের মালিকানাধীন অরবিটালস এন্টারপ্রাইজ ও অরবিটাল ইন্টারন্যাশনাল, সাবেক এমপি বেনজীর আহমেদের আহমেদ ইন্টারন্যাশনাল, সাবেক এমপি নিজাম উদ্দিন হাজারীর স্নিগ্ধা ওভারসিজ লিমিটেড এবং সাবেক এমপি লে. জেনারেল (অব.) মাসুদউদ্দিন চৌধুরীর ফাইভ এম ইন্টারন্যাশনাল।

এছাড়া আলোচিত জনশক্তি ব্যবসায়ী নূর আলীর ইউনিক ইস্টার্ন প্রাইভেট লিমিটেড এবং মালয়েশিয়া সিন্ডিকেটের আলোচিত রুহুল আমিন স্বপনের ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনাল-এর লাইসেন্সও বাতিল করা হয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানে বড় অনিয়ম

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর মালয়েশিয়া শ্রমবাজারে সিন্ডিকেট ও দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত এজেন্সিগুলো মোট ২ লাখ ৬৭ হাজার ২৭৬ জন কর্মী মালয়েশিয়ায় পাঠিয়েছে। সরকার নির্ধারিত ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকা ফি-এর পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে পাঁচ গুণ পর্যন্ত বেশি অর্থ আদায় করা হয়েছে। এতে অতিরিক্ত আদায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৫৪৫ কোটি ২০ লাখ ৮২ হাজার ৫০০ টাকা।

এ ঘটনায় ইতোমধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং আরও ৬০টি মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।

শ্রমবাজারে সিন্ডিকেটের অভিযোগ

২০১৮ সালে অনিয়মের অভিযোগে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়া বন্ধ করে মালয়েশিয়া। পরে ২০২১ সালে নতুন সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে শ্রমবাজার পুনরায় চালু হলেও ১০০টি অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মধ্যে ২০-২৫টি প্রতিষ্ঠানের একটি সিন্ডিকেট পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করছিল বলে অভিযোগ ওঠে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সিন্ডিকেটের কারণে অভিবাসন ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায় এবং সাধারণ কর্মীদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।

পরবর্তী পদক্ষেপ

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আইন লঙ্ঘনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে শ্রমবাজারে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে রিক্রুটিং কার্যক্রমে আরও কঠোর নজরদারি জোরদার করা হবে।