ঢাকা, ২৭ জুলাই ২০২৬:ভুতুড়ে বিল কিংবা বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতের কারসাজি নিয়ে আলোচনার অভাব নেই, তবে এবার যা সামনে এলো তা চোখ কপালে তোলার মতো! অনিয়ম আর জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে রাষ্ট্রের প্রায় এক হাজার কোটি টাকা পকেটে পুরেছে দেশের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ‘ইউনাইটেড গ্রুপ’।

দুদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, গ্যাসে বিশেষ সুবিধার নামে সংস্থাটি আত্মসাৎ করেছে ঠিক ৯৮১ কোটি ৬৭ লাখ ৮০ হাজার ১৫ টাকা!
ঘটনার মূলে রয়েছে ইউনাইটেড গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ‘ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড’। নিয়ম অনুযায়ী তাদের যেভাবে গ্যাসের দাম মেটানোর কথা ছিল (ক্যাপাসিটি রেট), অসদুপায় অবলম্বন করে তারা সুযোগ নেয় তার চেয়ে অনেক কম খরচের (আইপিপি রেট)। বছরের পর বছর ধরে চলা এই চাতুরীতে তিতাস গ্যাসের বকেয়া পড়ে ৪৮৬ কোটি ৪৩ লাখ টাকারও বেশি, আর চট্টগ্রাম অঞ্চলের কর্ণফুলী গ্যাসের পাওনা দাঁড়ায় প্রায় ৪৯৫ কোটি ২৩ লাখ টাকা। দুটো মিলে আত্মসাতের এই বিশাল অঙ্ক গড়ে ওঠে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে এসব অনিয়মের স্পষ্ট প্রমাণ বা প্রাথমিক সত্যতা। তিতাস, কর্ণফুলী গ্যাস, বিইআরসি, বেপজা ও সাব-রেজিস্ট্রার অফিস থেকে একের পর এক কাগজপত্র যাচাই করে থলের বিড়াল বাইরে আনেন দুদকের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম।
শুধু বিপুল এই অর্থ লোপাটই নয়, ইউনাইটেড গ্রুপের বিরুদ্ধে উঠেছে জাল দলিল বানিয়ে সরকারি জমি দখল, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং বিদেশে টাকা পাচারের (Money Laundering) মতো গুরুতর সব অভিযোগ। দুদক জানিয়েছে, অতি শিগগিরই অনুসন্ধান শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা ঠুকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে।
এদিকে থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়ার পর এবং আইনি ফাঁদ শক্ত হচ্ছে টের পেয়ে চতুরতার আশ্রয় নেন অভিযুক্তরা। তবে শেষরক্ষা হয়নি। অনুসন্ধান শেষ হওয়ার আগেই অভিযুক্ত প্রভাবশালী কর্তারা যাতে দেশ ছেড়ে সটকে পড়তে না পারেন, সেজন্য ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত শক্ত হাতে লাগাম টেনে ধরেছেন। আদালতের নির্দেশে ইতোমধ্যেই বিদেশ ভ্রমণে চূড়ান্ত নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা হাসান মাহমুদ রাজা, বর্তমান চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈন উদ্দিন হাসান রশিদ এবং সাবেক পরিচালক আবুল কালাম আজাদ-এর ওপর।
আপনার মতামত লিখুন :