চাঁদাবাজির টাকায় গড়ে ওঠা সন্ত্রাসের নেটওয়ার্ক, যেভাবে পরিচালনা করতেন ডেভিড ইমন


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : জুলাই ৩১, ২০২৬, ৪:৩৪ অপরাহ্ন

চট্টগ্রামে ব্যবসায়ী ও প্রবাসীদের লক্ষ্য করে সুসংগঠিত চাঁদাবাজির একটি নেটওয়ার্ক পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে।
পুলিশের দাবি, বিদেশি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে হুমকি দিয়ে লাখ থেকে কোটি টাকা পর্যন্ত চাঁদা দাবি করা হতো। পরে নগদে সংগ্রহ করা সেই অর্থ হুন্ডি ও ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে ইমনের কাছে পৌঁছে দেওয়া হতো।

গত বুধবার যশোর থেকে ভারতে পালানোর সময় তিন সহযোগীসহ ইমনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

যেভাবে চলত চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক

পুলিশের তথ্যমতে, চাঁদা দাবি করার আগে ভুক্তভোগীদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হতো। ব্যবসা, সম্পদ, নির্মাণাধীন ভবন, এমনকি পরিবারের সদস্যদের অবস্থান সম্পর্কেও তথ্য জোগাড় করত ইমনের সহযোগীরা।

এরপর বিদেশি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে ফোন করে কয়েক লাখ থেকে কয়েক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হতো। টাকা না দিলে গুলি, হামলা কিংবা ভাঙচুরের হুমকি দেওয়া হতো।

আলাদা ছিল প্রতিটি দলের দায়িত্ব

তদন্তে উঠে এসেছে, পুরো চাঁদাবাজি কার্যক্রম পরিচালনায় পৃথক পৃথক দল কাজ করত।

একটি দল তথ্য সংগ্রহ করত।
একটি দল ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে নগদ টাকা গ্রহণ করত।
আরেকটি দল হামলা, ভাঙচুর ও গুলিবর্ষণের মতো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করত।

সংগ্রহ করা নগদ অর্থ পরে নগরের জিইসি মোড় এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে ইউসুফ নামে এক ব্যক্তির কাছে জমা দেওয়া হতো। সেখান থেকে হুন্ডি বা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অর্থ পাঠানো হতো ইমনের কাছে। বর্তমানে ইউসুফকে খুঁজছে পুলিশ।

হামলার পর চাঁদা আদায়

পুলিশের তথ্যমতে, চাঁদার দাবিতে সাড়া না দিলে হামলার ঘটনাও ঘটানো হতো।

সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামে একটি নির্মাণাধীন ভবনে হামলা ও ভাঙচুর এবং একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায় ইমনের অনুসারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। এসব ঘটনার পর ব্যবসায়ী মহল প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানিয়ে তার গ্রেপ্তারের দাবি তোলে।

ভুক্তভোগীদের আতঙ্ক

একাধিক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, প্রাণনাশের ভয়ে তারা নগদে চাঁদা দিতে বাধ্য হয়েছেন। অনেকেই অভিযোগ করলেও পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি নন। তাদের আশঙ্কা, ইমন বা তার সহযোগীরা জামিনে মুক্ত হলে প্রতিশোধ নিতে পারে।

ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন থেকে সন্ত্রাসের পথে

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাসিন্দা ডেভিড ইমন একসময় নিয়মিত ক্রিকেট অনুশীলন করতেন। স্থানীয় পর্যায়ে খেললেও পরে সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের বাহিনীতে যোগ দেন। পুলিশ বলছে, বর্তমানে চট্টগ্রামে ওই বাহিনীর অন্যতম নেতৃত্বে ছিলেন তিনি।

তার বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে। পুলিশের দাবি, বড় সাজ্জাদের বাহিনীতে বর্তমানে প্রায় ৫০ জন শুটার ও সহযোগী সক্রিয় রয়েছে এবং ইমন তাদের অন্যতম সমন্বয়কারী ছিলেন।

পুলিশ জানিয়েছে, রিমান্ডে নেওয়ার পর ইমনের কাছ থেকে চাঁদাবাজির অর্থের উৎস, সহযোগীদের পরিচয় এবং অস্ত্রের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।