ভারতের প্রতি বাংলাদেশের তীব্র প্রতিবাদ: কী বলা হয়েছে


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : অগাস্ট ৬, ২০২৬, ৪:৩৬ অপরাহ্ন

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে ভারতের প্রতি তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলা হয়েছে—

শেখ হাসিনাকে গণমাধ্যমে কথা বলার সুযোগ দেওয়ায় ক্ষোভ: বাংলাদেশ বলেছে, পলাতক ও দণ্ডিত গণহত্যার আসামি শেখ হাসিনাকে নয়াদিল্লিতে গণমাধ্যমের সঙ্গে প্রকাশ্যে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যেখানে তিনি ও তাঁর সহযোগীরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও জনগণের বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা: বিবৃতিতে বলা হয়, এ ধরনের আয়োজন দুই দেশের সম্পর্কের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে—এ উদ্বেগ আগে থেকেই ভারত সরকারকে জানানো হয়েছিল। তা সত্ত্বেও অনুষ্ঠানটি হতে দেওয়ায় বাংলাদেশ গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে।
বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের অবমাননা: জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকীর দিন ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনার এই বক্তব্যকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি গুরুতর অসম্মান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ: বিবৃতিতে বলা হয়, জাতিসংঘের তথ্যে উঠে আসা ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের সহিংসতা ও বেসামরিক নাগরিক হত্যার ঘটনাকে অস্বীকার করা ইতিহাস বিকৃতির ব্যর্থ চেষ্টা।
ফ্যাসিবাদে ফিরে না যাওয়ার অঙ্গীকার: বাংলাদেশ দাবি করেছে, দেশের জনগণ আর কখনও ফ্যাসিবাদী শাসনে ফিরে যাবে না এবং দণ্ডিত ব্যক্তিদের রাষ্ট্রব্যবস্থায় কোনো স্থান হবে না।
প্রত্যর্পণ চুক্তির প্রসঙ্গ: ২০১৩ সালের বাংলাদেশ-ভারত প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর জন্য বাংলাদেশের বারবার অনুরোধের এখনও কোনো সাড়া মেলেনি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্পর্ক নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান: বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় মর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে গঠনমূলক ও পারস্পরিক লাভজনক সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। তবে দণ্ডিত ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া দুই দেশের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করা হয়েছে।