বড় ভূমিকম্প মোকাবিলায় ঢাকায় চিহ্নিত ৪৪৫ ‘নিরাপদ আশ্রয়স্থল’


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : অগাস্ট ১২, ২০২৬, ১২:০৯ অপরাহ্ন

ভূমিকম্পের ঝুঁকি বিবেচনায় রাজধানী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় ৪৪৫টি ‘নিরাপদ আশ্রয়স্থল’ চিহ্নিত করেছে সরকার। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ২৫৬টি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৮৯টি স্থান রয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু সম্প্রতি জাতীয় সংসদে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এসব স্থানকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ঘোষণা করতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তা অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে ঢাকা

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে ছোট মাত্রার কয়েকটি ভূমিকম্প অনুভূত হলেও এগুলো বড় ভূমিকম্পের নিশ্চিত পূর্বাভাস নয়। তবে দেশের ভূ-প্রাকৃতিক অবস্থান ও অতীতের ভূমিকম্পের ইতিহাস বিবেচনায় শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ঢাকায় ৬ থেকে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানলে দুর্বল ও অপরিকল্পিত নির্মাণের কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।

বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ মেহেদী আহমেদ আনসারী জানিয়েছেন, বাংলাদেশে ৭ থেকে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পের ঝুঁকি রয়েছে। অতীতে ১৮৬৯ সালে কাছাড়ে ৭ দশমিক ৫, ১৮৮৫ সালে বেঙ্গল ভূমিকম্পে ৭ দশমিক ১, ১৯১৮ সালে শ্রীমঙ্গলে ৭ দশমিক ৬ এবং ১৯৩০ সালে ধুবড়িতে ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল।

১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুতের উদ্যোগ

রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় ভূমিকম্পসহ নগর দুর্যোগে দ্রুত সাড়া দিতে ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবকের একটি সমন্বিত ডাটাবেজ তৈরির কাজও চলছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগমন্ত্রী।

সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আওতায় থাকা স্বেচ্ছাসেবকদের তথ্য সংগ্রহ করে এই ডাটাবেজ তৈরি করা হচ্ছে। দুর্যোগের সময় উদ্ধার, প্রাথমিক সহায়তা ও জরুরি সাড়াদানে তাদের কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

কোথায় আশ্রয় নেবেন?

সরকার এখনো ৪৪৫টি আশ্রয়স্থলের সুনির্দিষ্ট নাম ও ঠিকানা জনসমক্ষে প্রকাশ করেনি। তবে ভূমিকম্পের সময় নিরাপদ থাকার জন্য সাধারণভাবে বড় ও উন্মুক্ত স্থান বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

সম্ভাব্য নিরাপদ স্থান হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে—

বড় খেলার মাঠ—সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক খোলা মাঠ;
পার্ক ও উন্মুক্ত উদ্যান;
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের খোলা মাঠ—যেমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট বা বড় স্কুল-কলেজের প্রাঙ্গণ;
বিস্তীর্ণ খালি জায়গা—বহুতল ভবন, বিদ্যুতের খুঁটি ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা থেকে দূরে থাকা স্থান।

তবে ভূমিকম্পের সময় শুধু আশ্রয়স্থল চিহ্নিত করাই যথেষ্ট নয়। ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা, জরুরি বহির্গমন ব্যবস্থা, উদ্ধার সরঞ্জাম এবং জনসচেতনতা—সবকিছুর সমন্বিত প্রস্তুতিই বড় দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ।