তাজমিন হত্যা: আদালতে দোষ স্বীকার সিএনজিচালক সুমনের


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১০, ২০২৬, ৯:২৬ অপরাহ্ন

কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনকে ধর্ষণের পর হত্যার মামলায় গ্রেপ্তার অটোরিকশাচালক সুমন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। শনিবার (১০ অক্টোবর) কুমিল্লা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন তিনি। পরে তাঁকে কুমিল্লা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

কুমিল্লা আদালতের পরিদর্শক সাদেকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শনিবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে সুমনকে আদালতের ৬ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক মমিনুল হকের কাছে হাজির করা হয়। সেখানে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে রাত ৭টা ২০ মিনিটে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত, পুলিশের ভাষ্য

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বুধবার রাতে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকা থেকে ৩০০ টাকা ভাড়ায় তাজমিনকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে অটোরিকশায় তোলেন সুমন। পরে লালমাই উপজেলার একটি ফসলি জমিতে নিয়ে তাঁকে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয় বলে পুলিশের দাবি।

পুলিশ আরও জানায়, ঘটনার পর তাজমিনের মোবাইল ফোন নিয়ে চট্টগ্রামে পালিয়ে যান সুমন। শুক্রবার তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাখরাবাদ এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তাজমিনের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

ফসলি জমি থেকে উদ্ধার হয় মরদেহ

গত বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগৎপুর গ্রামের একটি ফসলি জমি থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তন উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির অনিয়মিত ছাত্রী ছিল। তার বাড়ি যশোরে। পরিবারের সঙ্গে সে নগরীর রেসকোর্স এলাকায় বসবাস করত।

ঘটনাটি এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় আদালতে দেওয়া জবানবন্দি এবং অন্যান্য সাক্ষ্য-প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।