খেলাপি ঋণের আদায়ের ভিত্তিতে পদোন্নতির যোগ্যতা নির্ধারণ


দৈনিক বাংলার মুখ ডেস্ক প্রকাশের সময় : অগাস্ট ৯, ২০২৫, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ন

:: নিজস্ব প্রতিবেদক ::

নিয়মিতভাবে সরকারি ব্যাংকের কর্মচারীদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে নতুন নীতিমালা চালু করা হয়েছে, যেখানে খেলাপি ও অবলোপন ঋণের আদায়, নতুন ঋণ ও আমানত বৃদ্ধিকে গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এই নীতিমালায় নির্দিষ্ট কিছু অযোগ্যতার কারণ যেমন বিভাগীয় মামলা, ফৌজদারি চার্জশিট বা দণ্ডপ্রাপ্ত থাকলে আরও কঠোরভাবে বিবেচনা করা হবে। এছাড়া, পদোন্নতিতে অযোগ্য হিসেবে বিচার্য হবে এসব দণ্ডের সাথে আরও নির্দিষ্ট কিছু শর্তাবলী, যেমন—সর্বশেষ তিন বছরের মধ্যে যদি কোনও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্য থাকে বা মামলার বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও পদোন্নতি কার্যকর হবে না। তাছাড়া, মূলত দণ্ড বা চার্জশিট থাকলে বা দণ্ডপ্রাপ্তি ঘটলে নির্দিষ্ট শর্তে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

প্রজ্ঞাপনে নিশ্চিত করা হয়েছে, সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার জন্য, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিদ্যমান নিয়মাবলী বাতিল করে নতুন একটি সমন্বিত নীতিমালা কার্যকর করা হবে, যা ছয়টি রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকের জন্য প্রযোজ্য হবে। এর মধ্যে সোনালী, রূপালী, জনতা, অগ্রণী, বেসিক ব্যাংক এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল) অন্তর্ভুক্ত। এই অভিন্ন নীতিমালায়, বিভিন্ন পর্যায়ের জন্য যেমন—অফিসার, সিনিয়র অফিসার, প্রিন্সিপাল অফিসার, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার, সহকারী মহাব্যবস্থাপক ও উপমহাব্যবস্থাপক—নির্ধারিত মানদণ্ড ও শর্তাবলী নির্ধারিত হয়েছে। এর মাধ্যমে অব্যাহতভাবে স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী, পদোন্নতিতে বিবেচিত হতে হলে সব প্রার্থীকে নির্দিষ্ট নম্বর এবং মানদণ্ডের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করতে হবে। এই মূল্যায়নে গড় এসিআর, শিক্ষাগত যোগ্যতা, ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা, অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা, অবলোপন ঋণ আদায় ও নতুন ঋণ বৃদ্ধির পাশাপাশি আমানত ও শ্রেণিকৃত ঋণের প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য। এছাড়া, গোপনীয় প্রতিবেদনে কোনও নেতিবাচক মন্তব্য থাকলে, বা কোনও মামলা বা অভিযোগ থাকলে বা সংশ্লিষ্ট বিষয়জনিত কোনও দণ্ডের জন্য দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়া থাকলে, তার জন্য ওই প্রার্থী অযোগ্য ঘোষণা করা হবে। আরও বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, দণ্ডের মাত্রা, সময়সীমা ও ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতিতে বিবেচনা করে পদোন্নতি দেয়া হবে। যেমন—দণ্ডের ক্ষেত্রে, যদি কোনও কর্মকর্তা দণ্ডপ্রাপ্ত হয় এবং দণ্ডের মেয়াদ শেষ হয়, তবে নির্দিষ্ট সময় পরে পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হতে পারে। তবে, দণ্ড বা চার্জশিটের কারণে যে শাস্তি কার্যকর হয়নি বা চার্জপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি, তখনই পদোন্নতি হবে।

তদ্ব্যতীত, বিভিন্ন ধাপের মূল্যায়নে মৌখিক পরীক্ষার গুরুত্বও রয়েছে। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থী গড় নম্বর ৭৫ এর বেশি পেলে এবং গোপনীয় প্রতিবেদনের গড় নম্বর ৪৫ হলে তার জন্য পদোন্নতির সুযোগ তৈরি হবে। এছাড়া শিক্ষাগত যোগ্যতায় ১৫ এবং চাকরির অভিজ্ঞতায় ১৫ নম্বর বরাদ্দ। ব্যাংকিং ডিপ্লোমা, দুর্গম এলাকার চাকরি ও শাখা ব্যবস্থাপনায় সাফল্যের জন্য অতিরিক্ত নম্বর দেওয়া হবে। মৌখিক পরীক্ষায় ৮ নম্বর থাকলেও পাশের জন্য ন্যূনতম ৪ নম্বর প্রয়োজন। নম্বর বিভাজন ও মূল মানদণ্ডের মধ্যে, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাদার অভিজ্ঞতা, ব্যাংকিং পরীক্ষার নম্বর ও সাম্প্রতিক অর্জন পর্যায়ক্রমে বিবেচনা করা হবে। সবার শেষে, এই নিয়মাবলী একটি স্বচ্ছ এবং প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ব্যাংকের কর্মী উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও ব্যাংকিং খাতের স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।