চলন্ত বাসে কুবি শিক্ষার্থী ধর্ষণচেষ্টা: দুজনের কারাদণ্ড, পলাতক তিনজন


দৈনিক বাংলার মুখ ডেস্ক প্রকাশের সময় : অগাস্ট ২৩, ২০২৫, ১১:১০ পূর্বাহ্ন

:: নিজস্ব প্রতিবেদক ::

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) নৃবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে চলন্ত বাসে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টা করার অভিযোগে দুইজনকে হাতেনাতে আটক করে শিক্ষার্থীরা। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের প্রত্যেককে অজামিনযোগ্য দুই বছরের কারাদণ্ড দেন। এ ঘটনায় আরও তিনজন এখনও পলাতক রয়েছেন।

শুক্রবার সকালে সেন্টমার্টিন পরিবহণের একটি যাত্রীবাহী বাসে এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী কোটবাড়ি বিশ্বরোড থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে বাসে ওঠেন। কিন্তু বাসটি নির্ধারিত পথে না গিয়ে চৌদ্দগ্রামের দিকে ঘুরে যায়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীকে একা পেয়ে চালক, হেল্পারসহ আরও তিনজন তার গলায় ছুরি ধরে টাকা-পয়সা ও গহনা ছিনিয়ে নেয় এবং ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় শিক্ষার্থীকে হাত-পা বেঁধে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে তার অনুরোধে স্থানীয় একটি হোটেলে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে অন্যান্য শিক্ষার্থী তাকে উদ্ধার করে এবং বাসে থাকা দুইজনকে আটক করে।

ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে শিক্ষার্থীরা অভিযুক্তদের ক্যাম্পাসে এনে শাস্তি দাবি করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করা হয়। এতে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে সেনাবাহিনীও এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আটক মো. হোসেন আলী (২৫) ও মো. আলী হোসেন (২৩)-এর দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পলাতক তিনজন হলেন—পিচ্চি রাসেল (৩২), নূর আলম ও সৌরভ। এ ঘটনায় শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণচেষ্টার মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণের ইউএনও রুবাইয়া খানম বলেন, “শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক সাজা দেওয়া হয়েছে।” কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খান জানিয়েছেন, “বাকি তিনজনকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করতে চেষ্টা চলছে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী বলেন, “আমাদের নারী শিক্ষার্থীকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের চেষ্টা হয়েছে। দুইজন ধরা পড়েছে, বাকিদেরও দ্রুত গ্রেফতার করা হবে। চার্জশিট দ্রুত দাখিল করা হবে যাতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়।”