মার্কিন সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত আন্তর্জাতিক সম্প্রচারমাধ্যম ভয়েস অব আমেরিকা (ভিওএ) এবার পড়ল বড় ধরনের ঝড়ে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সংস্থাটিতে ব্যাপক কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে ৫৩২টি পদ বাতিল হতে যাচ্ছে, যার মধ্যে বেশিরভাগই ভিওএ’র অধীনে। শেষ পর্যন্ত মাত্র ১০৮ জন কর্মী অবশিষ্ট থাকবেন এই ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানে।
হোয়াইট হাউস দীর্ঘদিন ধরেই ভিওএ-কে ‘উগ্রপন্থি প্রচারণা চালায়’ বলে সমালোচনা করে আসছিল। এবার সেটিকে সীমিত আকারে আনার অংশ হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ভিওএ’র মূল সংস্থা ইউএস এজেন্সি ফর গ্লোবাল মিডিয়া (ইউএসএজিএম)-এর ভারপ্রাপ্ত প্রধান কারি লেক বলেছেন, এ সিদ্ধান্তে ফেডারেল আমলাতন্ত্র কমবে, কার্যকারিতা বাড়বে এবং করদাতাদের অর্থ সাশ্রয় হবে। তবে সাংবাদিক ইউনিয়ন একে “অবৈধ সিদ্ধান্ত” আখ্যা দিয়েছে।
এর আগে গত জুনে কারি লেক ৬৩৯ কর্মীকে ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছিলেন, কিন্তু প্রশাসনিক জটিলতা ও আদালতের স্থগিতাদেশে তা কার্যকর হয়নি। সম্প্রতি আদালত ভিওএ’র পরিচালক অপসারণের প্রক্রিয়াকে বেআইনি ঘোষণা করায় এবং লেককে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেওয়ার পরই শুক্রবার রাতে এ নতুন ছাঁটাই প্রক্রিয়া শুরু হয়।
একদল কর্মী ইতিমধ্যেই আদালতে মামলা করে দাবি করেছেন—“কারি লেক ধারাবাহিকভাবে ভয়েস অব আমেরিকাকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছেন। বিষয়টি আদালতের জবানবন্দিতেই প্রমাণিত হবে।”
উল্লেখ্য, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি প্রচারণার পাল্টা হিসেবে জন্ম নেওয়া ভয়েস অব আমেরিকা বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
👉 প্রশ্ন এখন একটাই—ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠান কি টিকে থাকবে, নাকি ট্রাম্প প্রশাসনের চাপেই ভেঙে পড়বে?
আপনার মতামত লিখুন :