ভ্রমণবিলাসী সাইফুজ্জামান পাচার করেছেন ৬২০০ কোটি টাকা


দৈনিক বাংলার মুখ ডেস্ক প্রকাশের সময় : অগাস্ট ৩১, ২০২৫, ২:৪০ অপরাহ্ন

:: নিজস্ব প্রতিবেদক ::

  • পরিবারসহ ১৭ দেশে ৫৪ সফর প্রতিটি দেশেই সম্পদ পাচার
  • যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও দুবাইয়ের পর এবার সিঙ্গাপুরে এমএলএআর
  • পাঁচ মামলায় ১০৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, আরো মামলার প্রস্তুতি

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী তাঁর মন্ত্রীকালীন সময়সহ ব্যক্তিগত জীবনে ভ্রমণবিলাসী ছিলেন। দুদক অনুসারে, ২০১৪ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে তিনি ১৭টি দেশে ৫৪ বার ভ্রমণ করেছেন। প্রতিটি সফরের সময় তিনি ওই দেশে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করেছেন। সবচেয়ে বেশি সম্পদ পাঠিয়েছেন যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সিঙ্গাপুরে।

দুদকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, তার ৫৮১টি ফ্ল্যাট ও বাড়ি এবং আটটি প্রতিষ্ঠানের খোঁজ পাওয়া গেছে, যার মোট মূল্য ৬ হাজার ২৬৩ কোটি টাকা। যুক্তরাজ্যে ৩৪৩টি, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২২৮টি এবং যুক্তরাষ্ট্রে ৯টি ফ্ল্যাট ও প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এছাড়া সিঙ্গাপুরে একটি ফ্ল্যাট ও চারটি প্রতিষ্ঠানের হদিস পাওয়া গেছে। কমিশন পাচার করা সম্পদ ফেরত আনার জন্য যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, দুবাই এবং শিগগিরই সিঙ্গাপুরে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিসট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) পাঠাচ্ছে।

দুদক ইতিমধ্যেই সাবেক মন্ত্রী ও তার স্ত্রী রুখমীলা জামানের বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা দায়ের করেছে, যার মধ্যে ১০৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। মামলাগুলোতে বলা হয়েছে, কর্মচারীকে মালিক সাজিয়ে নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ নিয়ে তা আত্মসাৎ ও মানি লন্ডারিং করা হয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশের মাধ্যমে এসব অভিযোগ সাপেক্ষে মামলা করা হয়েছে।

আদালতের নির্দেশে সাবেক মন্ত্রী ও তার পরিবারের দেশে-বিদেশের ৫৮০টি সম্পত্তি জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এই হিসাবগুলিতে বর্তমানে প্রায় পাঁচ কোটি ২৬ লাখ টাকা আছে। সাইফুজ্জামান ও তার স্ত্রীর দেশত্যাগেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

সাইফুজ্জামান চৌধুরান ২০১৩ সালে চট্টগ্রাম-১২ আসন থেকে, ২০১৪ সালে চট্টগ্রাম-১৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৪-২০১৯ সালে তিনি ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৯ সালে একই আসন থেকে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আবার চট্টগ্রাম-১৩ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন।