ঢাকা: হাইকোর্ট সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের সংশোধনী ‘অবৈধ ও সংবিধান পরিপন্থী’ ঘোষণা করে মূল ১১৬ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করেছে। রায়ের ফলে অধস্তন আদালতে দায়িত্বপালনরত বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ—কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি, ছুটি মঞ্জুরি এবং শৃঙ্খলা বিধান—সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের হাতে ফিরে এসেছে।
মঙ্গলবার বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর বেঞ্চ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে তিন মাসের মধ্যে পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ২০১৭ সালের তৈরি শৃঙ্খলাবিধি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হয়েছে।
হাইকোর্টে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। শিশির মনির সাংবাদিকদের বলেন, “এ রায়ের ফলে বিচারকরা নির্ভয়ে রায় দিতে পারবে, আর উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের নামে রাতের আঁধারে বদলির ভয় থাকবে না। এটি একটি ঐতিহাসিক রায়।”
১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিচারক ও ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলার দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপর ছিল। তবে বর্তমান সংশোধিত ধারায় তা রাষ্ট্রপতির হাতে থাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। হাইকোর্টের এই রায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :