চড়া বাজার নিয়ে ক্রেতাদের আক্ষেপ

স্বস্তি নেই সবজির বাজারে, ডিম-মুরগি বিলাসপণ্য


দৈনিক বাংলার মুখ ডেস্ক প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৫, ১০:০৮ অপরাহ্ন

:: নিজস্ব প্রতিবেদক ::

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে তেল, চাল, ডিম, আটা, সবজি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম চরমভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সীমিত আয়ের মানুষ দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। অনেকেই ডিম, দুধ ও সবজি বঞ্চিত হয়ে যাচ্ছেন।

কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা যায়, ৪৫ টাকা দামের ডিমের হালি এখন ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শাক-পাচারও ২০ টাকার নিচে পাওয়া দায় হয়ে পড়েছে। মালিবাগ বাজারে সুমন মল্লিক জানান, তার দৈনিক আয় ৩০০-৪০০ টাকা, যা দিয়ে একদিনের বাজারও করতে পারছেন না। চাল-তেল কিনে মাছ বা মাংস নেওয়া যাচ্ছে না। পেঁয়াজ, আদা বা রসুনের প্রয়োজন হলে মাছ-মাংস কেনাও অসম্ভব হয়ে পড়ছে।

চাল ও আটার দামে সামান্য ভিন্নতা থাকলেও এখনও মূল্য খুব বেশি। মিনিকেট চালের কেজি ৭২-৮৫ টাকা, নাজিরশাইল চাল ৭৫-৯৫ টাকা, ব্রি-২৮ চাল ৬২ টাকা ও মোটা স্বর্ণা চাল ৫৮-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্যাকেটজাত আটা ৫৫-৬০ টাকা, খোলা আটা ৪৫-৫০ টাকায়। ময়দার দাম কেজিতে ৭০-৭৫ টাকা, খোলা ময়দা ৬৫-৭০ টাকায়।

ডালের দামও বেড়েছে; মসুর ডাল ১৪৫-১৫০ টাকা কেজি এবং চায়ের প্যাকেট প্রতি ১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। সবজির বাজারেও খুব পরিবর্তন নেই; বেগুণ ১০০-১৪০, করলা ৯০-১০০, কচুর লতি ৮০-১০০, ঢ্যাঁড়স ৭০-৮০, কচুমুখি ৫০-৬০, পেঁপে ৩০-৪০, ঝিঙে ও চিচিঙ্গা ৯০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কাঁচা মরিচের দাম ২২০-২৬০ টাকা কেজি, দেশি পেঁয়াজ ৬৫-৭২ টাকা, আমদানিকৃত পেঁয়াজ ৬০-৬২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রসুনের দাম কিছুটা কমে ১৫০-১৬০ টাকায় এসেছে।

মুরগি ও ডিমের দামও কম যায়নি। ব্রয়লার মুরগি ১৭০-১৮০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩২০-৩৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিম প্রতি ডজন ১৪০-১৪৫ টাকা দরে।

ক্রেতারা বলছেন, প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে এত বেশি খরচ মানিয়ে নেওয়া তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। বাজারে মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতাকে চরমভাবে প্রভাবিত করছে।