ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোট-সমঝোতার নানামুখী আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে নতুন আলোচনায় এসেছে দুই তরুণ নেতৃত্বাধীন দল—জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও গণঅধিকার পরিষদ। গুঞ্জন উঠেছে, দল দুটি একীভূত হয়ে বিকল্প শক্তি গঠনের পথে এগোতে পারে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তরুণ ভোটারদের বড় অংশকে আকৃষ্ট করা সম্ভব হবে। যদিও মৌলিক কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। এনসিপি নেতারা বিষয়টিকে ‘আলোচনার পর্যায়ে’ বললেও গণঅধিকার পরিষদের নেতারা সরাসরি একীভূত হওয়ার বিষয়টি এখনই স্বীকার করছেন না।
আলোচনার সূত্রপাত হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে আহত গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে হাসপাতালে দেখতে গেলে। সেখান থেকেই অনানুষ্ঠানিকভাবে ঐক্যের আলাপ শুরু হয়। তবে দুই দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি।
গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেন, রাজনীতিতে নানা আলোচনা চলতেই থাকে, তবে একীভূত হওয়ার বিষয়ে কোনো বৈঠক হয়নি। এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিনও একীভূত হওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে বলেন, যৌক্তিক দাবিতে একসঙ্গে কাজ করার চিন্তা আছে।
উল্লেখ্য, দুটি দলের জন্মই এসেছে কোটা সংস্কার আন্দোলনের ধারাবাহিকতায়। নুরের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ছাত্র অধিকার পরিষদ থেকেই পরবর্তীতে গণঅধিকার পরিষদে রূপান্তর হয়, আর ২০২৪ সালের কোটা আন্দোলনের পর জন্ম নেয় এনসিপি। এ কারণে নুরকে অনেক এনসিপি নেতা তাদের রাজনৈতিক ‘গুরু’ বলেও উল্লেখ করেন।
রাজনৈতিক মহল মনে করছে, চূড়ান্ত সমঝোতা হলে এ ঐক্য তরুণ রাজনীতির নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। তবে আপাতত বিষয়টি রয়ে গেছে গুঞ্জন আর অনানুষ্ঠানিক আলোচনার সীমাবদ্ধতায়।
আপনার মতামত লিখুন :