জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস

ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন, সংস্কার কার্যক্রম চলমান রাখার ঘোষণা প্রধান উপদেষ্টার


আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৫, ১১:৪০ অপরাহ্ন

আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও চলমান সংস্কার কার্যক্রমের প্রতিশ্রুতি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে তুলে ধরেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে নিউইয়র্কে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অন্তর্বর্তী সরকার ধারাবাহিকভাবে সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এ সময় তিনি ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান–পরবর্তী সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ, অর্থনৈতিক সংস্কার, দুর্নীতি দমন, পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধারের প্রচেষ্টা, রোহিঙ্গা সংকট ও বৈশ্বিক সংঘাতের বিষয়েও বিস্তারিত আলোকপাত করেন।

অধ্যাপক ইউনূস জানান, ভেঙে পড়া রাষ্ট্রকাঠামো পুনর্গঠনে সরকার ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন করেছে। লক্ষ্য—ক্ষমতার ভারসাম্যপূর্ণ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা, যাতে আর কোনো স্বৈরশাসকের উত্থান না ঘটে। তিনি বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে যে দলই ক্ষমতায় আসুক, সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তার অবকাশ থাকবে না।’

অর্থনীতি প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সুশাসন ও টেকসই উন্নয়নই বর্তমান সরকারের কৌশলের কেন্দ্রবিন্দু। বিগত সরকারের দুর্নীতি ও অর্থপাচার দেশের অর্থনীতিকে দুর্বল করেছে উল্লেখ করে তিনি পাচার হওয়া সম্পদ ফেরাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা কামনা করেন।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে তিনি জানান, সংকট কোনোভাবেই বাংলাদেশ-মিয়ানমারের দ্বিপক্ষীয় বিষয় নয়; এটি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যু। আশ্রয় দেওয়া সত্ত্বেও তহবিল সংকটে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে চরম অবস্থা তৈরি হয়েছে। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জরুরি সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

গাজায় ইসরায়েলি নিপীড়নকে তিনি ‘নির্বিচার গণহত্যা’ আখ্যা দিয়ে বলেন, শিশুরা না খেয়ে মরছে, হাসপাতাল-স্কুল গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। বিশ্ব সম্প্রদায়ের নিষ্ক্রিয়তায় তিনি গভীর হতাশা প্রকাশ করেন এবং পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, তাঁর সরকারের অঙ্গীকার—একটি বৈষম্যমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা এবং তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠা করা।