ইলিশের বাজারে অস্থিরতা

দাম বাড়ার পেছনে দাদন ব্যবসায়ীদের কারসাজি


বাংলার মুখ ডেস্ক প্রকাশের সময় : অক্টোবর ৩, ২০২৫, ১১:১৩ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশ দীর্ঘদিন ধরেই সাধারণ মানুষের প্রিয় হলেও এবার এর দাম বেড়ে বিলাসী পণ্যে পরিণত হয়েছে। চলতি মৌসুমে বাজারে ইলিশের কেজিপ্রতি দাম গত বছরের তুলনায় গড়ে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে দেড় কেজির বেশি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার টাকায়, যা গত বছর ছিল সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা।

বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের (বিটিটিসি) সাম্প্রতিক সমীক্ষায় দাম বাড়ার পেছনে ১১টি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো দাদন প্রথার দৌরাত্ম্য, অবৈধ মজুত, মুনাফাখোর সিন্ডিকেট, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, নদীর নাব্য সংকট, অবৈধ জাল ব্যবহার, নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা এবং রফতানির চাপ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ব্যবসায়ীদের কৃত্রিম সংকট তৈরির কারণে দাম লাগামহীন হয়ে উঠেছে।

সরকার এ বছর দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারতের জন্য ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন ইলিশ রফতানির অনুমতি দিলেও স্থানীয় বাজারে দাম বেশি থাকায় রফতানিকারকরা আগ্রহ হারাচ্ছেন। দেশে যেখানে ইলিশের দাম কেজিপ্রতি ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত, ভারতে রফতানি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ১ হাজার ৫৩৩ টাকা।

দাম নিয়ন্ত্রণে বিটিটিসি কয়েকটি সুপারিশ করেছে—জেলেদের সমবায় সমিতি গঠন, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে সরাসরি পাইকারদের কাছে বিক্রি, সরকারি উদ্যোগে বিপণন কেন্দ্র স্থাপন, কোল্ডস্টোরেজ নির্মাণ এবং বাধ্যতামূলক রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্সের ব্যবস্থা।

বিটিটিসির চেয়ারম্যান মইনুল খান বলেন, “ইলিশ শতভাগ দেশীয় পণ্য হলেও এর বাজারে কৃত্রিম প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে। মূলত দাদন ব্যবসায়ীদের কারসাজিই দাম বৃদ্ধির বড় কারণ।”

অন্তর্বর্তী সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতারও স্বীকার করেছেন বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কথা। তিনি বলেন, “মানুষ যেন সাশ্রয়ী দামে ইলিশ খেতে পারে, সে জন্য আমরা আসল সমস্যার সমাধানে গবেষণা চালাচ্ছি।”

অন্যদিকে, ভোলার জেলে এমদাদ হোসেন জানান, দাদন ব্যবসায়ীরা অবৈধভাবে ইলিশ মজুত করে বাজার অস্থিতিশীল করছে। এই প্রথা বন্ধ করতে পারলেই বাজার দ্রুত স্থিতিশীল হবে বলে তিনি দাবি করেন।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যানুসারে, দেশের মোট মাছ উৎপাদনের ১২ শতাংশ আসে ইলিশ থেকে। জিডিপিতে এর অবদান প্রায় ১ শতাংশ। প্রতিবছর প্রায় ৬ লাখ টন ইলিশ আহরিত হয়, যার অধিকাংশই সমুদ্র থেকে আসে।

👉 সার্বিকভাবে দেখা যাচ্ছে, ইলিশের দামের লাগাম টেনে ধরতে হলে দাদন ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ ও বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়াই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।