দীর্ঘ দুই বছরের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর অবশেষে গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ) যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়ার পর দলে দলে গাজা সিটিতে ফিরছেন বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা।
চুক্তি অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনী ধাপে ধাপে নির্ধারিত সীমারেখায় ফিরে যাচ্ছে এবং উত্তরাঞ্চলে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আবিচায় আদ্রায় জানান, দক্ষিণ গাজার প্রধান সড়ক ব্যবহার করে মানুষকে উত্তরে ফেরার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তবে কিছু এলাকা এখনো “অত্যন্ত বিপজ্জনক” হিসেবে চিহ্নিত থাকায় সেখানে সাধারণ মানুষকে না যেতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
গাজার স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইসরায়েলি বাহিনী ইতিমধ্যে গাজা সিটির উত্তর-পশ্চিম প্রান্ত থেকে পূর্ব দিকে সরে গেছে। ইসরায়েলি গণমাধ্যমও জানিয়েছে, আইডিএফ কয়েকটি এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু করেছে।
এই যুদ্ধবিরতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত তিন ধাপের শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ধাপে ধাপে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করা হবে। তবে গাজার অর্ধেকের বেশি এলাকা এখনো ইসরায়েলি সেনাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকরের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে উভয় পক্ষকেই বন্দি ও জিম্মিদের মুক্তি দিতে হবে। বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, হামাস আগামী সোমবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার মধ্যে জীবিত থাকা ২০ জন জিম্মিকে মুক্তি দেবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধবিরতি গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও পরিস্থিতি এখনো নাজুক ও অনিশ্চিত।
আপনার মতামত লিখুন :