ইসরায়েলি বন্দিদশা থেকে মুক্ত ড. শহিদুল আলম

দেশে ফিরলেন শহিদুল আলম


বাংলার মুখ ডেস্ক প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১১, ২০২৫, ১১:৫১ পূর্বাহ্ন

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলোকচিত্রী ও মানবাধিকারকর্মী ড. শহিদুল আলম ইসরায়েলের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে শনিবার ভোর ৪টা ৫৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছেন। দেশে ফিরে তিনি সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং দেশবাসীর সহমর্মিতার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

শহিদুল আলম বলেন, “এখনও গাজা মুক্ত হয়নি। সেখানে এখনও আক্রমণ চলছে। আমাদের কাজ শেষ হয়নি। গাজাবাসীদের ওপর যে নির্যাতন হয়, তার তুলনায় আমাদের সঙ্গে যা হয়েছে, তা কিছুই নয়।”

অপহরণ ও মুক্তির পটভূমি

গত বুধবার ভোরে ‘কনশানস’ (Conscience) নামে একটি মানবিক সহায়তা জাহাজ থেকে ড. শহিদুল আলমসহ একদল সাংবাদিক, চিকিৎসক ও ক্রু সদস্যকে ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী অপহরণ করে। তারা ওই জাহাজের মাধ্যমে গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর চেষ্টা করছিলেন।

ঘটনার পরপরই নোবেলজয়ী ও ড. শহিদুল আলমের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দপ্তর থেকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দ্রুত কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু করা হয়। জর্ডান, মিশর ও তুরস্কে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোকে সক্রিয় করে সংশ্লিষ্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তার মুক্তির ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

আন্তর্জাতিক সহযোগিতা

মুক্তির পর ড. শহিদুল আলম তেল আবিব থেকে তুরস্কে পৌঁছান। সেখান থেকে রাষ্ট্রীয় সহযোগিতায় দেশে ফিরে আসেন তিনি। তার নিরাপদ প্রত্যাবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় ড. ইউনূস বিশেষভাবে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

মানবতার পক্ষে অটল অবস্থান

দেশে ফিরে শহিদুল আলম কেবল নিজের মুক্তির কথাই বলেননি, বরং আরও জোরালো কণ্ঠে গাজার মানুষের দুঃখ-দুর্দশার কথা তুলেছেন। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়েছেন—গাজার মানুষ মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত যেন লড়াই চালিয়ে যায়।

“এটা শুধু গাজার লড়াই নয়, এটা ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর লড়াই। আমি ফিরে এসেছি, কিন্তু যারা গাজায় আছে, তাদের জন্য আমরা কী করছি—সেই প্রশ্নটা আমাদের করতে হবে।”