সারাদেশে একযোগে টাইফয়েড টিকাদান কর্মসূচি শুরু: ৫ কোটি শিশুকে দেওয়া হবে বিনামূল্যে টিকা


বাংলার মুখ ডেস্ক প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১২, ২০২৫, ১১:০২ পূর্বাহ্ন

দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সারাদেশে একযোগে শুরু হয়েছে টাইফয়েড টিকাদান কর্মসূচি। ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী প্রায় পাঁচ কোটি শিশুকে বিনামূল্যে ইনজেকটেবল টাইফয়েড টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে শনিবার সকালে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

শনিবার সকাল ৯টা ২০ মিনিটে রাজধানীর আজিমপুরে স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম এতিমখানা কেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “টাইফয়েডে এখনও শিশুদের মৃত্যু হয়—এটা আমাদের লজ্জার। ডায়রিয়া ও রাতকানা প্রতিরোধে আমরা যেমন সফল হয়েছি, এবার টাইফয়েড প্রতিরোধেও সফল হব ইনশাআল্লাহ।”

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সরকারের মূল লক্ষ্য রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা। যত বেশি শিশু টিকার আওতায় আসবে, ততই হাসপাতালের চাপ ও রোগীর সংখ্যা কমবে। টাইফয়েড এমন একটি রোগ, যা সচেতনতা ও টিকাদানের মাধ্যমে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। প্রতিটি শিশুর কাছে টিকা পৌঁছাতে পারলে দেশে টাইফয়েডে মৃত্যুর ঘটনা প্রায় শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ। তিনি বলেন, “টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন কেবল একটি স্বাস্থ্য প্রকল্প নয়, এটি বাংলাদেশের জন্য একটি মাইলফলক। দীর্ঘদিন ধরে নিম্নআয়ের শিশুদের মধ্যে টাইফয়েড নীরব বিপদ হিসেবে ছিল—এ উদ্যোগ সেই বাস্তবতাকে বদলে দেবে।”

এক মাসব্যাপী এই কর্মসূচিতে ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের একটি করে ইনজেকটেবল টাইফয়েড টিকা বিনামূল্যে দেওয়া হবে। জন্মসনদ না থাকলেও কোনো শিশুকে এই টিকার বাইরে রাখা হবে না বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

দেশের প্রথম জাতীয় টাইফয়েড টিকাদান কর্মসূচিতে ব্যবহৃত টিকাটি তৈরি করেছে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট। আন্তর্জাতিক ভ্যাকসিন সহায়তা সংস্থা গ্যাভির সহযোগিতায় বাংলাদেশ সরকার এই টিকা পেয়েছে।