চিফ প্রসিকিউটর

আটক বললে অবশ্যই ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে আদালতে আনতে হবে


বাংলার মুখ ডেস্ক প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১২, ২০২৫, ৫:১৩ অপরাহ্ন

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেছেন, গুমের মামলায় সামরিক কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তারি সংক্রান্ত যে কোনো ব্যবস্থা আইন ও সংবিধানের কঠোর নিয়ম মেনে চলতে হবে — গ্রেপ্তার করা হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে আদালতের সামনে উপস্থিত করতে হবে।

রোববার (১২ অক্টোবর) ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন-১৯৭৩ বিশেষভাবে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, গোয়েন্দা ও পুলিশসহ বিভিন্ন ডিসিপ্লিনারি ফোর্সের বিচারের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এই আইনে বর্ণিত অপরাধগুলি বাংলাদেশের সাধারণ কোনো আইনে বা সশস্ত্র বাহিনীর নিজস্ব আইনে রয়েছে না — এগুলো আন্তর্জাতিক আইনে বর্ণিত গুরুতর অপরাধ, তাই এসব কেবল ট্রাইব্যুনালের এই বিশেষ আইনের আওতায় বিচার করা হবে।

চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, আইন চলার গতি নির্ধারণ করবে আদালত—যদি আদালত গ্রেপ্তারের পর কোনো অপরাধীকে আটক রাখার অনুমোদন দেয়, তখন আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তাকে আটক রাখা হবে; না হলে ২৪ ঘণ্টার বেশি কাউকে আটক রাখা যাবে না। সংবিধানও একই বিধান স্বীকৃত করেছে।

মিডিয়ায় গৃহীত ১৫ সেনা কর্মকর্তার ‘হেফাজত’ সংক্রান্ত খবরের জবাবে তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ তাদের আটক রাখার বিষয়টি জানায়নি, তাই সংবাদে প্রকাশিত তথ্যকে আপাতত আনুমানিক হিসেবে নেওয়া হবে না। যদি আনুষ্ঠানিকভাবে বলা হয় যে তারা আটক রয়েছেন, তাহলে আইন অনুসারে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের আদালতে আনা বাধ্যতামূলক হবে। তিনি এই বিষয়ে তৎক্ষণাৎ কোনও মন্তব্য করতে চাইছেন না, যতক্ষণ না বিষয়টি অফিসিয়ালি নিশ্চিত করা হয়।

চিফ প্রসিকিউটর শীর্ষকথায় আরও জোর দিয়ে বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার বিচারের জন্য তৈরীকৃত এই ট্রাইব্যুনাল আইনই সংবিধানের ওপর প্রাধান্য রাখে এবং এর বিধানকে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে রিট দেওয়া যাবে না—সুতরাং বিচারের সকল প্রক্রিয়া এই আইনের নিয়মনীতির মধ্যেই সম্পন্ন হবে।