জুলাই আন্দোলনের সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপ গোপনে রেকর্ড করেছিল রাষ্ট্রীয় সংস্থা ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি)। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রতিষ্ঠিত এ সংস্থাটি শুরুতে বিরোধী মতের রাজনীতিক ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ফোনে আড়ি পাতলেও, পরে শেখ হাসিনার নিজের ফোনালাপও নজরদারিতে আনে।
বুধবার (১৫ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে এ তথ্য প্রকাশ করেন চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তিনি জানান, এনটিএমসি থেকে উদ্ধারকৃত ফোনালাপগুলোতে শেখ হাসিনা জুলাই আন্দোলনের সময় নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এসব আলাপ হয় সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এস. এম. মাসুদ কামালের সঙ্গে।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এনটিএমসির কর্মকর্তারা গোপনে এসব ফোনালাপ রেকর্ড করেন এবং পরবর্তীতে তদন্ত কর্মকর্তারা সেগুলো উদ্ধার করেন। যেহেতু রাষ্ট্রীয় সংস্থা থেকেই এসব রেকর্ড এসেছে, সেহেতু এর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। সিআইডির ফরেনসিক পরীক্ষাতেও নিশ্চিত করা হয়েছে যে, এগুলো এআই-নির্মিত নয়; বরং শেখ হাসিনা, ইনু, তাপস ও মাসুদ কামালের আসল কণ্ঠ।
তিনি আরও জানান, আন্দোলন দমনে হেলিকপ্টার ব্যবহার করে গুলি চালানো হয়েছিল। র্যাব ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় ৩৬ বার হেলিকপ্টার উড্ডয়ন করেছে ঢাকাসহ চট্টগ্রাম, সিলেট, রংপুর, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চলে। বৃহস্পতিবার চিফ প্রসিকিউটর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করবেন।
আপনার মতামত লিখুন :