জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের যোগদান


বাংলার মুখ ডেস্ক প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১৭, ২০২৫, ৫:১০ অপরাহ্ন

ঐতিহাসিক ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত হন।

অনুষ্ঠানে সরকারের বেশ কয়েকজন উপদেষ্টা, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, গণঅধিকার পরিষদসহ নানা রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান শুরু হয়।

জুলাই সনদ মূলত রাষ্ট্রের গভীর সংস্কার ও গণতান্ত্রিক রূপান্তরের নীতিমালা নির্ধারণে একটি ঐকমত্যভিত্তিক দলিল। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সংবিধান, নির্বাচনব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, দুর্নীতি দমন, পুলিশ ও বিচার বিভাগ—এই ছয়টি বিষয়ে সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়।

পরে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন এসব কমিশনের প্রস্তাব নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা চালায়। ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত চলা আলোচনায় ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবে ঐকমত্যে পৌঁছে কমিশন। এই প্রস্তাবগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করেই জুলাই সনদের খসড়া তৈরি করা হয়, যা পরবর্তীতে দলীয় ও বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত করা হয়। গত মঙ্গলবার সনদের চূড়ান্ত কপি রাজনৈতিক দলগুলোর হাতে তুলে দেওয়া হয়।

আজ (শুক্রবার) সেই ঐতিহাসিক দলিলেই সই করছে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো, যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এদিকে, সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান ঘিরে সকাল থেকেই সংসদ ভবন এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করে। জুলাই অভ্যুত্থানে আহত ছাত্র-জনতা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও বীরের মর্যাদা দাবিতে অনুষ্ঠানস্থলে অবস্থান নেন।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ তাদের দাবি বিবেচনার আশ্বাস দিয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানালেও আন্দোলনকারীরা অবস্থান বজায় রাখেন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের সরিয়ে দিলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

পরবর্তীতে অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানান, জুলাই যোদ্ধাদের দাবি বিবেচনা করে সনদের অঙ্গীকারনামার ৫ নম্বর দফা সংশোধন করা হয়েছে, যাতে তাদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

এই সংশোধনের মধ্য দিয়ে সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের উত্তেজনা প্রশমিত হয় এবং উপস্থিত প্রতিনিধিরা একটি ঐক্যবদ্ধ ও সংস্কারমুখী রাষ্ট্র নির্মাণের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।