ঋণের অর্থ ছাড়বে না আইএমএফ

নির্বাচিত সরকার না আসা পর্যন্ত ঋণের অর্থ ছাড়বে না আইএমএফ


বাংলার মুখ ডেস্ক প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২১, ২০২৫, ১:৪৩ অপরাহ্ন

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) নির্বাচিত সরকার গঠনের আগে বাংলাদেশকে ঋণের ষষ্ঠ কিস্তি দিতে রাজি নয়। সম্প্রতি ওয়াশিংটনে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার ফাঁকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের সঙ্গে বৈঠকে সংস্থাটি এই বার্তা দিয়েছে। ডিসেম্বর মাসে প্রায় ৮০ কোটি ডলার ঋণের কিস্তি ছাড় হওয়ার কথা থাকলেও আইএমএফ জানিয়েছে, নতুন সরকারের নীতিগত অবস্থান ও চলমান সংস্কার কর্মসূচির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা অর্থ ছাড়বে না। গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, আইএমএফের অর্থ ছাড় না হলেও বাংলাদেশের রিজার্ভ ভালো অবস্থায় আছে এবং ডলার বাজার স্থিতিশীল। তিনি আরও জানান, আইএমএফের সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ হলেও তাদের অর্থ ছাড়া দেশ চলতে সক্ষম। অন্যদিকে অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আইএমএফ যদি অতিরিক্ত কঠিন শর্ত আরোপ করে, বাংলাদেশ তা মেনে নেবে না, কারণ এখন দেশ আগের মতো সংকটে নেই।

বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে ঋণ না ছাড়ার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আইএমএফ একটি কূটনৈতিক চাপ তৈরি করছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের প্রতি ‘শর্ত মানছে না’—এমন বার্তা দিতে পারে। সংস্থাটি চায় নির্বাচনের পর নতুন সরকারের কাছ থেকে সংস্কার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি নিয়ে পরে ঋণ ছাড়তে। এর আগেও ২০০১ সালে একই ধরনের চাপ প্রয়োগ করেছিল আইএমএফ। ২০২২ সালেও জ্বালানি ও মুদ্রানীতিতে কঠোর শর্ত আরোপ করে সরকারকে তেল ও গ্যাসের দাম বাড়াতে বাধ্য করেছিল সংস্থাটি, যার ফলে দেশে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যায়।

ঋণের ষষ্ঠ কিস্তির শর্ত পর্যালোচনার জন্য আগামী ২৯ অক্টোবর আইএমএফের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকায় আসছে। তারা দুই সপ্তাহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করবে এবং ফিরে গিয়ে তাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে একটি মূল্যায়ন প্রতিবেদন দাখিল করবে। এই প্রতিবেদনের ওপরই নির্ভর করবে ঋণ ছাড়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২১৪ কোটি ডলারে। রেমিট্যান্স ও রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রবণতা রয়েছে, আমদানি ব্যয়ও নিয়ন্ত্রিত এবং চলতি হিসাব ঘাটতিমুক্ত।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের সময় সরকার আইএমএফের কাছে সহায়তা চায় এবং ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে সংস্থাটি ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন করে, পরে তা ৫৫০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ পাঁচ কিস্তিতে ৩৬০ কোটি ডলার পেয়েছে, আর ষষ্ঠ কিস্তিই এখন আলোচনায় রয়েছে।