মানবতাবিরোধী অপরাধের তিন মামলায় ট্রাইব্যুনালের আদেশ

১৫ সেনা কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ


বাংলার মুখ ডেস্ক প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২২, ২০২৫, ১১:২৪ পূর্বাহ্ন

মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি পৃথক মামলায় হেফাজতে থাকা সাবেক ও কর্মরত ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বুধবার (২২ অক্টোবর) সকালে ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক বেঞ্চ এ আদেশ দেন। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সকাল সোয়া ৭টার দিকে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বাংলাদেশ জেল প্রিজন ভ্যানে করে অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের আদালতে আনা হয়।

জানা গেছে, মানবতাবিরোধী অপরাধের তিন মামলার মধ্যে দুটি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের করা হয়। অপর মামলাটি গত জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরা ও বনশ্রী এলাকায় সংঘটিত হত্যাযজ্ঞ ও নির্যাতনের ঘটনায় করা হয়েছে। তিন মামলায় সাবেক ও বর্তমান মিলিয়ে মোট ৩২ জনকে আসামি করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৫ সেনা কর্মকর্তা বর্তমানে সেনা হেফাজতে রয়েছেন।

গুম-নির্যাতন সংক্রান্ত মামলাগুলোর একটিতে আসামি ১৭ জন। এদের মধ্যে র‌্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুব আলম, ব্রিগেডিয়ার কে এম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম বর্তমানে সেনা হেফাজতে আছেন।

অপরদিকে মামলার পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন র‌্যাবের সাবেক তিন মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, এম খুরশিদ হোসেন ও মো. হারুন-অর-রশিদ। এছাড়া মামলার আসামি তালিকায় রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও র‌্যাবের সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মুহাম্মাদ খায়রুল ইসলাম— যারা সবাই পলাতক।

গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের আরেক মামলায় আসামি করা হয়েছে বিজিবির সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. রেদোয়ানুল ইসলাম, মেজর মো. রাফাত-বিন-আলম, পুলিশের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম ও সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমানকে। এর মধ্যে রেদোয়ানুল ও রাফাত বর্তমানে সেনা হেফাজতে, বাকিরা দুজন পলাতক।।