রাজধানীর উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত নির্মিত মেট্রোরেল ব্যবস্থায় ৪৫টি ত্রুটি ও ঘাটতি চিহ্নিত করেছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। এসব ত্রুটির মধ্যে রয়েছে সংকেত ও টেলিযোগাযোগ, বৈদ্যুতিক কাজ, অবকাঠামো এবং ট্রেন-সম্পর্কিত বিভিন্ন সমস্যা।
ডিএমটিসিএলের ৬৩ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃষ্টির সময় স্টেশনে পানি ঢোকা, এসি বিকল হওয়া, এবং টিকিটিং মেশিনে ঘনঘন ত্রুটি সবচেয়ে বেশি চোখে পড়েছে। যেখানে প্রতি এক লাখ যাত্রীর মধ্যে একজনের সমস্যার কথা বলা ছিল, সেখানে বাস্তবে প্রতি এক লাখে প্রায় দেড় হাজার যাত্রী প্রথম চেষ্টায় ব্যর্থ হচ্ছেন।
কর্তৃপক্ষ জানায়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চুক্তি অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করেনি এবং নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করেছে। চিঠি দিয়েও সমস্যাগুলোর বেশির ভাগের সমাধান হয়নি।
সম্প্রতি ফার্মগেটে মেট্রোরেল স্থাপনার বিয়ারিং প্যাড পড়ে এক পথচারী নিহত হওয়ার পর প্রকল্পের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যদিও ডিএমটিসিএল বলছে, এসব ত্রুটি বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি না করলেও, পরিচালনায় বিঘ্ন ও ঘন ঘন মেরামতের প্রয়োজন পড়ছে।
প্রকল্পের শুরুতে ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকায় ব্যয় ধরা হলেও বর্তমানে ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে এটি দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রকল্পগুলোর একটি।
নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী ফারুক আহমেদ জানিয়েছেন, “পুরো প্রকল্পের ত্রুটি ও ঘাটতি নিয়ে তদন্ত চলছে। ঠিকাদার ও পরামর্শককে সময় বাড়িয়ে সব সমস্যা সমাধান করতে হবে।”
এদিকে, বৃষ্টির সময় স্টেশন ও ডিপো এলাকাজুড়ে পানি ঢোকার বিষয়টি যাত্রীদের কাছেও স্পষ্ট হয়েছে। অনেক যাত্রী অভিযোগ করেছেন, বৃষ্টির সময় প্ল্যাটফর্মে দাঁড়ালে ভিজে যেতে হয়, এমনকি এসকেলেটর ও লিফটের কাছেও পানি জমে থাকে।
ডিএমটিসিএল বলছে, তারা ইতোমধ্যে ৮৯টি স্থানে পানি প্রবেশের চিহ্ন পেয়েছে এবং পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়েছে, কিন্তু অধিকাংশ স্থানের সমাধান এখনও হয়নি।


আপনার মতামত লিখুন :