ঢাকায় ভয়াবহ সাপের উপদ্রব

৯ তলায়ও উঠছে সাপ, চার মাসে উদ্ধার ৩৫১টি সাপ


বাংলার মুখ ডেস্ক প্রকাশের সময় : নভেম্বর ৪, ২০২৫, ৩:৩১ অপরাহ্ন

ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় গত চার মাসে ভয়াবহ সাপের উপদ্রব দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে শহরের জনবহুল এলাকা থেকে ৩৫১টি সাপ উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় সবই বিষধর। ধরা পড়া সাপের মধ্যে পদ্মগোখরা, রাসেলস ভাইপার, খৈয়া গোখরা এবং রাজ কুইটসহ বিপজ্জনক প্রজাতি রয়েছে।

সংস্থার আহ্বায়ক আদনান আজাদ জানান, বাসা, গ্যারেজ এমনকি নবতলা পর্যন্ত সাপ উঠেছে। বিশেষ করে উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউকের ফ্ল্যাট প্রজেক্ট এবং বনশ্রী এলাকায় সবচেয়ে বেশি সাপ পাওয়া গেছে। তিনি আরও বলেন, সাপগুলো উপরের তলায় পৌঁছাতে লতানো গাছ বা অন্যান্য রাস্তা ব্যবহার করে উঠে গেছে।

প্রাণীবিদ্যা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকায় সাপের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার মূল কারণ হলো মানুষের বসতি ও জলাশয়, খাল-বিল ভরাটের কারণে সাপের প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংকুচিত হওয়া। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মিজানুর রহমান বলেন, “সাপের সংখ্যার বৃদ্ধি স্বাভাবিক, কারণ মানুষ তাদের বাসস্থান ধ্বংস করেছে। এছাড়া প্রজননকালও এই সময়ে শুরু হয়েছে।”

উদ্ধারকৃত সাপগুলোকে বন ও প্রাণী সংরক্ষণ আইন ২০১২ অনুযায়ী প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা হয়। আইন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি নিজস্বভাবে সাপ রাখতে পারবে না। আহ্বায়ক আজাদ জানান, উদ্ধারকৃত সাপগুলো মানুষ থেকে দূরে এমন স্থানে অবমুক্ত করা হচ্ছে যেখানে তারা মানুষের সংস্পর্শে আসবে না।

চট্টগ্রামের প্রাণীবিদ্যা বিশেষজ্ঞ ফরিদ আহসান বলেন, পদ্মগোখরা প্রজাতি মূলত পানিপ্রেমী এবং নদী, খাল-বিল বা জলাশয়ের আশেপাশের ঝোপঝাড়ে থাকে। কিন্তু ঢাকায় মানুষের বাসস্থানের কারণে তারা মানুষের আবাসস্থলে প্রবেশ করছে। বিশেষ করে বর্ষার সময়ে পানির অভাবের কারণে সাপ শুকনো স্থান খুঁজে মানুষের বাড়িতে চলে আসে।