সাউথইস্ট ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আলমগীর কবির, তার ছেলে রাইয়ান কবির, পুত্রবধূ নুসরাত নাহার, এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাত, ঋণ জালিয়াতি ও সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
তদন্তের সূত্র পাওয়া গেছে বাংলাদেশ ফাইনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)–এর গোয়েন্দা প্রতিবেদনে, যেখানে প্রি-আইপিও প্লেসমেন্ট ও সেকেন্ডারি মার্কেটে শেয়ার লেনদেনের আড়ালে অনিয়মের প্রমাণ মেলে।
বিএসইসি তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে, যারা ৬০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে। কমিটির নেতৃত্বে আছেন অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া, সঙ্গে আছেন উপপরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান এবং সহকারী পরিচালক রানা দাশ।
তদন্তে দেখা হবে — ব্যাংকের কর্মকর্তারা কী পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন এবং এতে শেয়ারবাজার ও সাধারণ বিনিয়োগকারীরা কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, আলমগীর কবির ২০০৪ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত ২০ বছর চেয়ারম্যান ছিলেন এবং তার মেয়াদকালে আত্মীয়স্বজনকে পরিচালনা পর্ষদে নিয়োগ, অনিয়মে ঋণ বিতরণ ও বিধিবহির্ভূত সিদ্ধান্ত গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে।
২০২৪ সালের নভেম্বরে বিএসইসি তাকে বে লিজিংয়ের শেয়ার লেনদেনের অনিয়মে ১২ কোটি টাকা জরিমানা করে। তার স্ত্রী ও জামাতাকেও জরিমানা করা হয়।
এছাড়া, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে দুর্নীতি দমন কমিশনের আবেদনের পর আদালত তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
সর্বশেষ, সরকারের পরিবর্তনের পর ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে নতুন চেয়ারম্যান এম এ কাশেম নিয়োগ পান (২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫), তবে আলমগীর কবির তখনও পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :