বহুল আলোচিত গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি জানান, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে, এবং একই দিনে ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
ভাষণটি বাংলাদেশ টেলিভিশন, বিটিভি নিউজ ও বিটিভি ওয়ার্ল্ডে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
প্রধান উপদেষ্টা তার ভাষণে বলেন, “গণভোটে চারটি বিষয়ে এক প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট গ্রহণ করা হবে।”
এর আগে, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গত ২৭ অক্টোবর জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে দুটি বিকল্প সুপারিশ জমা দেয়। তবে গণভোটে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ না থাকায় বিএনপি, জামায়াতসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল বিপরীত অবস্থান নেয়।
রাজনৈতিক ঐক্যমতের অভাবে আজ বৃহস্পতিবার তেজগাঁওয়ে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ইতোমধ্যে ‘জুলাই সনদ’ অনুমোদন করেছেন। বিকেলে জাতির উদ্দেশে ভাষণে গণভোটের দিনক্ষণ ও নির্বাচন একসঙ্গে করার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন প্রধান উপদেষ্টা।
ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, গণভোটে সনদের সংবিধানসংক্রান্ত সংস্কার প্রস্তাব পাস হলে পরবর্তী সংসদ ২৭০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার করবে। নির্ধারিত সময়ে তা সম্পন্ন না হলে সংস্কার প্রস্তাবগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে যুক্ত হবে।
রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্যমতের অভাব এবং আলোচনায় ব্যর্থতার প্রেক্ষিতেই অন্তর্বর্তী সরকার নিজ উদ্যোগে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেন।
👉 সংক্ষেপে, ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন ও জুলাই সনদভিত্তিক গণভোট—দুটি ঐতিহাসিক জাতীয় প্রক্রিয়া এবার একসঙ্গেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :