মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা জুলাই গণহত্যা মামলা—যেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুন অভিযুক্ত—এর বহুল প্রতীক্ষিত রায় ঘোষণা হবে সোমবার, ১৭ নভেম্বর।
রায়টি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে, যাতে দেশ–বিদেশের মানুষ আদালতের কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করতে পারে। পাশাপাশি ঢাকার কয়েকটি স্থানে বড় পর্দায়ও দেখাবে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একটি সূত্র জানিয়েছে, বিশ্বের বহু দেশের নজর এখন বাংলাদেশের দিকে, তাই বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এটি উন্মুক্তভাবে প্রচারের।
গত ১৩ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল–১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ রায়ের তারিখ নির্ধারণ করেন। পক্ষ–বিপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ, যুক্তিতর্ক ও জেরা শেষ হওয়ার পর মামলাটি রায় ঘোষণার পর্যায়ে পৌঁছেছে।
প্রসিকিউশনের পক্ষ সমাপনী বক্তব্যে শেখ হাসিনা ও কামালের সর্বোচ্চ দণ্ড দাবি করেছে। অন্যদিকে রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়া সাবেক আইজিপি মামুনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত ট্রাইব্যুনালের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
মামলায় মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে—উসকানি, মারণাস্ত্র ব্যবহার, মৃত্যুদণ্ডযোগ্য হত্যাকাণ্ড এবং লাশ পুড়িয়ে ফেলা। ৮৪ সাক্ষীর মধ্যে ৫৪ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন, যা ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের সহিংসতার বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরে।
দীর্ঘ তদন্ত, হাজার হাজার পৃষ্ঠার প্রমাণ ও মাসব্যাপী শুনানির পর—জুলাই গণহত্যা মামলার প্রথম রায় শুনতে প্রস্তুত দেশ। কোন দণ্ড, কোন খালাস—সবকিছু স্পষ্ট হবে সোমবারের রায়ে।
আপনার মতামত লিখুন :