জুলাই গণ–অভ্যুত্থান

যে কারণে আপিল করতে পারবেন না শেখ হাসিনা


বাংলার মুখ ডেস্ক প্রকাশের সময় : নভেম্বর ১৭, ২০২৫, ১২:২৩ অপরাহ্ন

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ সোমবার রায় ঘোষণা করতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১। গণ–অভ্যুত্থান–সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর মধ্যে এটিই প্রথম, যার রায় ট্রাইব্যুনাল থেকে প্রকাশ পেতে যাচ্ছে।

বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ—সঙ্গে বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী—সকালে রায় দেবেন। আদালত এরই মধ্যে রায় ঘোষণার কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচারের প্রস্তুতিও শেষ করেছে।

মামলার প্রধান আসামি ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা; অন্য দুইজন হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুন। হাসিনা ও আসাদুজ্জামান বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন এবং পলাতক হিসেবে চিহ্নিত। মামলার আরেক আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী চৌধুরী মামুনকে ইতোমধ্যে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।

আইন অনুযায়ী, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা গ্রেপ্তার হওয়ার পর ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে পারবেন। একই সময়ে রাষ্ট্রপক্ষও পুনর্বিবেচনার আবেদন করতে পারে। কিন্তু পলাতকদের ক্ষেত্রে আইনের অবস্থান স্পষ্ট: গ্রেপ্তার না হলে আপিলের সুযোগ নেই। প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হোসেন তামিম বলেন, “পলাতক থাকাকালীন কোনো আসামিই আপিল বিভাগে যেতে পারবেন না।”

মামলার প্রধান আসামি একজন নারী হওয়ায় আইনে কোনো বিশেষ সুবিধা থাকতে পারে কি না—এ প্রশ্নে প্রসিকিউটর জানান, রায় প্রদানের ক্ষেত্রে আইনে নারী-পুরুষের জন্য আলাদা কোনো সুবিধা নেই। শাস্তি নির্ধারণ হবে কেবল অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী। অভিযোগ প্রমাণিত না হলে খালাস, আর প্রমাণ হলে শাস্তি—অবস্থান যাই হোক, নিয়ম একই।