আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান মামলায় পলাতক ও ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন বলেছেন, বিচার প্রক্রিয়া ছিল “স্বচ্ছ ও সুচারু”, এবং তাঁর মক্কেল খালাস পেলে “সবচেয়ে বেশি খুশি” হতেন তিনি।
সোমবার সকালে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,
“আমি আমার মক্কেলের খালাসই চাই—এটাই স্বাভাবিক। তবে উনার সঙ্গে যোগাযোগ করার কোনো বিধান নেই, আমিও চেষ্টা করিনি। কোনো পক্ষ থেকেই কোনো সহায়তাও পাইনি।”
আইনজীবী জানান, দীর্ঘ মাসের যুক্তিতর্কে তাঁর প্রত্যাশা ছিল শেখ হাসিনার খালাস। “একজনের জন্য এতদিন লড়েছি—তিনি খালাস পেলে আমার চেয়ে খুশি আর কে হবে?”—বললেন তিনি।
প্রসিকিউশনের বক্তব্যের বিপরীতে তিনি উল্লেখ করেন, আদালতই শেষ পর্যন্ত বিচার করবে। “প্রসিকিউশন তাদের কথা বলবে, আমি আমারটা বলেছি। সিদ্ধান্ত ট্রাইব্যুনালেরই।”
রায়কে কেন্দ্র করে ট্রাইব্যুনাল ও সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় তৈরি হয়েছে বহুস্তরীয় নিরাপত্তা—পুলিশ, র্যাব, বিজিবি থেকে সেনা সদস্য পর্যন্ত মোতায়েন। রবিবার সন্ধ্যার পর থেকেই দোয়েল চত্বরে যান চলাচল সীমিত করা হয়।
১৩ নভেম্বর রায় ঘোষণার দিন ঠিক করে ট্রাইব্যুনাল-১। বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্যানেল আজ রায় দেবেন।
মামলাটিতে ২৮ কার্যদিবসে ৫৪ জন সাক্ষীর জেরা সম্পন্ন হয়; যুক্তিতর্ক ও পাল্টা জবাব চলে নয় দিন। প্রসিকিউশন শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামানের সর্বোচ্চ দণ্ড চেয়েছে। রাজসাক্ষী হওয়ায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আল-মামুনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত ট্রাইব্যুনালের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়।
মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ নিয়ে গঠিত মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র প্রায় আট হাজার পৃষ্ঠার, সাক্ষী তালিকায় ৮৪ জন।
রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন অবশ্য এখনো আশাবাদী—“হাসিনা ও কামাল দুজনই খালাস পাবেন বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।
আপনার মতামত লিখুন :