কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভের (সিএসসি) সপ্তম জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা সম্মেলনে অংশ নিতে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের দিল্লিতে পৌঁছানোর কথা ছিল বুধবার।

এক দিন আগেই দিল্লি গেলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা


বাংলার মুখ ডেস্ক প্রকাশের সময় : নভেম্বর ১৮, ২০২৫, ১০:২৬ অপরাহ্ন

কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভের (সিএসসি) সপ্তম জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা সম্মেলনে অংশ নিতে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের দিল্লিতে পৌঁছানোর কথা ছিল বুধবার। তবে সূচি পরিবর্তন করে তিনি এক দিন আগেই—মঙ্গলবার সন্ধ্যায়—ভারতের রাজধানীতে পৌঁছেছেন।

ভারতের একটি কূটনৈতিক সূত্র জানায়, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার পর ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন খলিলুর রহমান। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ সচিবালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক মহল নিশ্চিত করেছে, আগামী বৃহস্পতিবার দিল্লির ঐতিহাসিক হায়দরাবাদ হাউসে সিএসসির নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সকাল থেকে শুরু হওয়া এই সভা মধ্যাহ্নভোজের পর শেষ হওয়ার কথা, আর সেদিন বিকেলেই খলিলুর রহমানের ঢাকায় ফেরার নির্ধারিত পরিকল্পনা রয়েছে।

এই সফরটি এমন সময় হচ্ছে, যখন মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেছে—যা দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। অন্তর্বর্তী সরকার দিল্লিতে আশ্রয় নেওয়া শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর আনুষ্ঠানিক অনুরোধ ভারতের কাছে জানিয়েছে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী ভারতে একটি চিঠি পাঠানো হচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে খলিলুর রহমানের দিল্লি সফর দুই দেশের সম্পর্ক–সংক্রান্ত সম্ভাব্য উচ্চপর্যায়ের আলোচনার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, তাঁর অবস্থানকালে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না—যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। গত মাসে সিএসসি বৈঠকে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন দোভাল নিজেই।

উল্লেখযোগ্যভাবে, অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছরের বেশি সময়ে ভারতের সঙ্গে এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ সীমিত ছিল। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইন্ডিয়া এনার্জি উইকে অংশ নিতে জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান ভারত সফর করেছিলেন। খলিলুর রহমানের এই সফর সেই সীমিত কূটনৈতিক যোগাযোগে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যোগ করল।