মানা হয়নি বিল্ডিং কোড: দুর্বল ভিত্তির ওপর টিকে আছে ঢাকার ২১ লাখ ভবন


বাংলার মুখ ডেস্ক প্রকাশের সময় : নভেম্বর ২৩, ২০২৫, ১২:৪৮ অপরাহ্ন

রাজধানী ঢাকায় ভূমিকম্পের সাম্প্রতিক সতর্কতার মধ্যেই এক উদ্বেগজনক চিত্র সামনে এসেছে। রাজউকের হিসেবে, মহানগরের ২২ লাখ ভবনের প্রায় ২১ লাখই দুর্বল ভিত্তির ওপর নির্মিত—যার অধিকাংশই নকশাবহির্ভূত, এবং যেখানে পর্যবেক্ষণ বা বিল্ডিং কোড মানার বিষয়টি দীর্ঘদিন উপেক্ষিত।

রাজউক জানায়, নিম্নতলা (দ্বিতল বা কম) ভবন প্রায় ১৫ লাখ হলেও চার থেকে ৩০ তলা পর্যন্ত প্রায় ছয় লাখ ভবন গুরুতর ঝুঁকিতে রয়েছে। নগর পরিকল্পনাবিদরা সতর্ক করছেন, বড় ধরনের ভূমিকম্প ঘটলে রাজধানীতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটতে পারে।

পুরোনো নকশা, দুর্বল নির্মাণ—ঝুঁকি সর্বত্র

রাজধানীর অনেক ভবন ২০–৩০ বছর আগে নির্মিত, তখন বিল্ডিং কোড কার্যত অমান্যই ছিল নিয়ম। একাধিক এলাকায় অনুমোদনহীন বহুতল ভবন, নিম্নমানের রড-সিমেন্ট, এবং সংকীর্ণ রাস্তা এখন ঝুঁকি আরও বাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞেরা বলেন, ঢাকার অনেক জায়গার মাটিই বহুতল ভবন সহনশীল নয়।

সম্প্রতি পরিদর্শনের পর রাজউক চেয়ারম্যান জানান, পুরান ঢাকার অধিকাংশ ভবনই ঝুঁকিপূর্ণ, যেখানে অল্প জমিতেও বহু তলা নির্মাণ করা হয়েছে। এসব এলাকায় পরিকল্পনা ছিল না, তদারকিও না।

সরকারি ভবনও নিরাপদ নয়

বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে—সরকারি ভাবে নির্মিত নতুন ভবনেরও ৩৭ শতাংশ ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে পিজি হাসপাতালের নতুন ভবনসহ বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।

স্থপতি ও নগরবিদেরা বলছেন, ঢাকার মোট জমির প্রায় ১৩ শতাংশ এলাকায় কোনো ভবন নির্মাণ হওয়ার কথা নয়—কিন্তু সেখানে বহুতল ভবন উঠেছে। বিপজ্জনক ভবন ভেঙে ফেলার নির্দেশ বহু আগেই দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।

ভূমিকম্প এখন বাস্তব সতর্কতা

সম্প্রতি বারবার ভূমিকম্পের ধাক্কা রাজধানীর প্রস্তুতির ঘাটতি স্পষ্ট করেছে। পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ঢাকার পুরোনো ৯০ শতাংশ ভবনেই বিল্ডিং কোড মানা হয়নি। “সাম্প্রতিক কম্পনগুলো স্পষ্ট সতর্কবার্তা,” তিনি বলেন, “ঢাকা ও পুরান ঢাকা এখন সবচেয়ে ঝুঁকিতে।”

বহু বছর ধরে ভবন নিরাপত্তা নিয়ে নীতি–অবহেলা, নির্মাণে অনিয়ম এবং তদারকির ঘাটতি ঢাকাকে পরিণত করেছে এক অরক্ষিত শহরে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন দ্রুত চিহ্নিত ও পুনর্গঠন ছাড়া রাজধানী যেকোনো বড় ধাক্কার জন্য ভয়াবহভাবে অরক্ষিত থেকে যাবে।