প্লট দুর্নীতির তিন মামলায় শেখ হাসিনার ২১ বছরের কারাদণ্ড


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : নভেম্বর ২৭, ২০২৫, ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন

ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালত বৃহস্পতিবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্লট দুর্নীতির তিন মামলায় মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন রায় ঘোষণা করেন।

আদালত সূত্র জানায়, তিন মামলায় শেখ হাসিনা, তাঁর পরিবারের সদস্যসহ মোট ৪৭ জনকে আসামি করা হয়েছিল। ৯১ জন সাক্ষীর জবানবন্দিতে উঠে আসে—রাজধানীতে নিজস্ব জমি থাকা সত্ত্বেও তথ্য গোপন করে রাজউকের আবাসন প্রকল্পে সরকারি প্লট বরাদ্দ নেন তিনি ও তাঁর সন্তানরা।

দুদক মামলাগুলো করে রাজউকের ৩০ কাঠা প্লট অবৈধভাবে নেওয়ার অভিযোগে। আসামিদের আদালতে হাজির করতে সমন ও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হলেও অধিকাংশই অনুপস্থিত থাকেন। পলাতক অবস্থাতেই হাসিনা ও আরও ২২ জনের বিরুদ্ধে বিচার সম্পন্ন হয়।

দুদকের অভিযোগপত্রে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে আবাসন নীতি লঙ্ঘন করেন শেখ হাসিনা। নিজের ও সন্তানদের নামে প্লট বরাদ্দে অসত্য তথ্যও প্রদান করা হয়।

তাঁর পরিবারের বাইরের আসামিদের মধ্যে আছেন সাবেক গৃহায়ন প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন, গৃহায়ন মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা এবং রাজউকের একাধিক সাবেক সদস্য। গ্রেফতার থাকা একমাত্র আসামি রাজউকের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।

গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগ শাসনামলের দুর্নীতির অভিযোগগুলো গুরুত্ব পেতে শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় দুদক এ বছরের জানুয়ারিতে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ৬০ কাঠা প্লট বরাদ্দসংক্রান্ত মোট ছয়টি মামলা করে। এসব মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়াও তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, বোন শেখ রেহানা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যকে আসামি করা হয়।

হাসিনা পরিবারের তিন মামলার বিচার একসঙ্গে চলছে; রেহানা পরিবারের মামলাগুলো আলাদা আদালতে চলছে। গত ২৩ নভেম্বর যুক্তিতর্ক শেষে হাসিনা পরিবারের মামলার রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করে আদালত। রেহানা পরিবারের একটি মামলার রায় ঘোষণা হবে ১ ডিসেম্বর।