নির্বাচনের আগে অস্থিতিশীলতার ছক, কয়েক মাস ধরে পরিকল্পিত হামলার ইঙ্গিত


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫, ১১:২২ পূর্বাহ্ন

নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশে অস্থিরতা তৈরির উদ্দেশ্যে একটি হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা কয়েক মাস ধরে চলছিল—এমন ইঙ্গিত পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তদন্ত–সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যার লক্ষ্যেই অন্তত দুই মাস ধরে তাঁকে অনুসরণ করা হচ্ছিল।

পুলিশ জানায়, তফসিল ঘোষণার পরদিন এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টিই ছিল মূল লক্ষ্য। ঘটনার রাতে রাজধানীর বাড্ডায় বাসে আগুন, কয়েক স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ এবং লক্ষ্মীপুরে নির্বাচন অফিসে অগ্নিসংযোগের ঘটনাগুলোর সঙ্গে এর যোগসূত্র থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, হাদির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিন ব্যক্তির একসঙ্গে থাকা ছবিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে এসেছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে। পুলিশ বলছে, তাঁরা সবাই আওয়ামী লীগ–সংশ্লিষ্ট রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।

এদিকে হামলায় জড়িত বলে সন্দেহভাজন দুই ‘শুটার’—ফয়সল করিম ও আলমগীর শেখ—ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁদের পালাতে সহায়তার অভিযোগে সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে সঞ্জয় চিসিম ও সিবিরন দিও নামে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে হামলায় জড়িতদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন নয়; বরং নির্বাচনের প্রাক্কালে বৃহত্তর অস্থিরতার পরিকল্পনার অংশ।