আমরা তরুণদের রক্ষা করব,” বলেন ড. ইউনূস

তরুণদের সুরক্ষাই দেশের ভবিষ্যৎ রক্ষার চাবিকাঠি: প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ১৬, ২০২৫, ৮:২৩ অপরাহ্ন

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, দেশের তরুণ সমাজকে সুরক্ষা দেওয়া গেলে বাংলাদেশে গণতন্ত্র, শান্তি ও সার্বভৌমত্ব অটুট থাকবে। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ আহ্বান জানান।

ড. ইউনূস বলেন, দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া পরাজিত শক্তির পুনরুত্থানের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তরুণরা। “আমাদের তরুণদের রক্ষা করলে আমরা সবাই এবং আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি রক্ষা পাবে,” বলেন তিনি। তাঁর মতে, নিরস্ত্র, ভীতিহীন ও ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে থাকা এই প্রজন্মই ক্ষমতাচ্যুত গোষ্ঠীর সবচেয়ে বড় ভয়।

কারও নাম উল্লেখ না করে প্রধান উপদেষ্টা সতর্ক করেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। তাঁর ভাষায়, নির্বাচন হওয়ার আগেই ‘পথের বাধা’ সরিয়ে নিজেদের প্রভাব পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এই তৎপরতা, কারণ নির্বাচন সম্পন্ন হলে তাদের প্রতি অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক সমর্থন দুর্বল হয়ে পড়বে।

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদির ওপর সাম্প্রতিক গুলির ঘটনাকে তিনি শুধু একজন ব্যক্তির ওপর হামলা নয়, বরং বাংলাদেশের অস্তিত্ব ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার ওপর আঘাত বলে উল্লেখ করেন। ড. ইউনূস জানান, সরকার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং ঘটনায় জড়িতদের প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে। “এই ষড়যন্ত্রে যারা জড়িত, তারা যেখানেই থাকুক, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না,” বলেন তিনি।

বর্তমানে সংকটাপন্ন অবস্থায় সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন হাদির চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিয়েছে বলেও জানান প্রধান উপদেষ্টা।

জাতির প্রতি সংযম, ঐক্য ও সতর্কতার আহ্বান জানিয়ে ড. ইউনূস গুজব ও অপপ্রচারে কান না দেওয়ার অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনকে ঘিরে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রাখতে হবে।

“আমাদের এক কণ্ঠে বলতে হবে— আমরা তরুণদের রক্ষা করব,” বলেন ড. ইউনূস। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ভয়হীন তরুণ প্রজন্মই নির্বাচন-পূর্ব সময়ে সহিংসতা ও সংঘাত থেকে দেশকে রক্ষা করবে এবং একটি অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।

ভাষণের শেষে তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, পরাজিত শক্তিকে আর কখনও বাংলাদেশের ‘পবিত্র মাটিতে’ ফিরে আসতে দেওয়া হবে না, এবং অন্তর্বর্তী সরকার গণতন্ত্র, শান্তি ও আইনের শাসনের প্রশ্নে আপসহীন থাকবে।