মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকির কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইরান যেকোনো পরিস্থিতিতে যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ওয়াশিংটন ইরানকে আবার ‘পরীক্ষা’ করতে চাইলে তেহরান দাঁতভাঙা জবাব দিতে সক্ষম।
সোমবার আল জাজিরা আরবিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাঘচি জানান, গত বছরের ১২ দিনের সংঘাতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ইরানের সামরিক প্রস্তুতি এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি বিস্তৃত ও শক্তিশালী। তিনি বলেন, অতীতেও সামরিক পথে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে এবং আবারও একই ভুল করলে ইরান তা মোকাবিলায় প্রস্তুত।
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থানের বিরুদ্ধে ট্রাম্প সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেওয়ার পর তেহরানের এই হুঁশিয়ারি এলো। ট্রাম্প একদিকে পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনার কথা বললেও, বিক্ষোভ দমন অব্যাহত থাকলে বড় ধরনের হামলার হুমকিও দিয়েছেন।
আরাঘচি বলেন, বর্তমান উত্তেজনার মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের পথ খোলা রাখা হয়েছে। তবে তিনি অভিযোগ করেন, ইরানের ভেতরে অস্থিরতা উসকে দিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল জড়িত এবং কিছু পক্ষ ইসরায়েলের স্বার্থে ওয়াশিংটনকে যুদ্ধে জড়ানোর চেষ্টা করছে।
গত ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি ঘিরে আন্দোলন দ্রুত সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নেয়, যা এখন তেহরান-ওয়াশিংটনের মধ্যে তীব্র স্নায়ুযুদ্ধে পরিণত হয়েছে। আরাঘচির হুঁশিয়ারি, বিদেশি হস্তক্ষেপ হলে তার আগুন পুরো অঞ্চলকে গ্রাস করতে পারে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে কোনো ঝটিকা অভিযানের চেষ্টা হলে তা বড় ধরনের আঞ্চলিক সংঘাতের সূত্রপাত করতে পারে। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ ও তেহরানের প্রতিরক্ষা কৌশলের দিকে বিশ্ব রাজনীতির নজর নিবদ্ধ।
আপনার মতামত লিখুন :