প্রায় এক দশক পর সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করলেও, সেই প্রস্তাব বাস্তবায়নের এখতিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, জাতীয় বেতন কমিশন কেবল একটি প্রতিবেদন দিয়েছে। “এই সরকার তা বাস্তবায়ন করতে পারবে না। এটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের বিষয়, যা মূলত পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব,” বলেন তিনি।
ফাওজুল কবির খান জানান, বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনার জন্য সরকার ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করেছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই সুপারিশ কার্যকর হলে দ্রব্যমূল্যে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই, কারণ সরকার তা বাস্তবায়ন করছে না।
জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ইস্যুতে তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর জন্য ‘ডিফেন্স জোন’ গঠনের উদ্যোগ প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং আপাতত কেবল জমি বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চীন বা পাকিস্তান থেকে যুদ্ধবিমান কিংবা ড্রোন কেনার বিষয়ে তিনি কোনো তথ্য জানেন না বলেও উল্লেখ করেন।
ক্রিকেট বিশ্বকাপ প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, “বাংলাদেশ অনৈতিক কিছু করেনি। আমরা কেবল বিকল্প ভেন্যু চেয়েছি। ভারত যেমন দীর্ঘদিন পাকিস্তানে খেলেনি, তেমনি বাংলাদেশও বিশ্বকাপে অংশ নিতে আগ্রহী।”
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের পে-স্কেলের আওতায় বর্তমানে প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী বেতন পাচ্ছেন। দীর্ঘদিন নতুন বেতনকাঠামো না হওয়ায় সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। এর প্রেক্ষিতে গত বছরের জুলাইয়ে অন্তর্বর্তী সরকার ২৩ সদস্যের জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে।
চলতি মাসের ২১ জানুয়ারি কমিশন তাদের প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দেয়। প্রতিবেদনে ২০ গ্রেড কাঠামো অপরিবর্তিত রেখে সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার এবং সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের পাশাপাশি বেতন-ভাতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :