মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নতুন ও বিপজ্জনক মোড়ে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার জবাবে ইরান ঘোষণা দিয়েছে—বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী আপাতত বন্ধ। ইরানি নৌবাহিনীর এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ায় প্রণালী দিয়ে সব ধরনের জাহাজ চলাচল স্থগিত হয়েছে।
পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের বড় অংশ পরিবাহিত হয়। বৈশ্বিক তেলের প্রায় ১৫–২০ শতাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) এক-তৃতীয়াংশের বেশি এই পথেই যায়। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, দীর্ঘমেয়াদি অবরোধ বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা আনতে পারে।
রুশ সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, বর্তমানে ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম যেখানে ৮০ ডলারের আশপাশে, সেখানে সরবরাহ বিঘ্নিত হলে তা ২৫০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এরই মধ্যে ইসরায়েলি হামলার পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৮.৫ ডলারে।
এশিয়ার দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে। এই রুট দিয়ে যাওয়া জ্বালানির প্রায় ৮০ শতাংশই এশিয়ামুখী, যার বড় অংশ চীন, ভারত ও পূর্ব এশিয়ার অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত। প্রতিদিন গড়ে ২০০–৩০০ জাহাজ চলাচল করা এই পথ বন্ধ থাকলে জ্বালানি, পরিবহন ও নিত্যপণ্যের দামে বিশ্বজুড়ে চাপ বাড়বে—এমনটাই সতর্ক করছেন বিশ্লেষকেরা।
ইরান স্পষ্ট করেছে, সংঘাত দীর্ঘ হলে অর্থনৈতিক অভিঘাতও তত গভীর হবে। বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে—এই অবরোধ কতটা সময় স্থায়ী হয় এবং কূটনৈতিক সমাধানের কোনো পথ খুলে কি না।
আপনার মতামত লিখুন :