আজারবাইজানে ড্রোন হামলার অভিযোগে ইরানকে দায়, পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি


আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশের সময় : মার্চ ৫, ২০২৬, ১০:০৬ অপরাহ্ন

আজারবাইজান অভিযোগ করেছে, তাদের একটি বিমানবন্দর ও স্কুলের কাছে ইরান থেকে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। বৃহস্পতিবারের এই ঘটনায় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন বলে জানায় দেশটির সরকার। ঘটনার পর প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ তেহরানের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে আলিয়েভ বলেন, আজারবাইজানের ভূখণ্ডে এটি একটি ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’। তিনি সামরিক বাহিনীকে সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন এবং সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন।

তবে হামলার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে ইরান। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ এক বিবৃতিতে জানায়, ইরান থেকে আজারবাইজানের দিকে কোনো ড্রোন ছোড়া হয়নি। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ওই বিবৃতিতে দাবি করা হয়, মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক নষ্ট করতে ইসরায়েল এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।

আজারবাইজানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দুপুরে অন্তত দুটি ড্রোন ইরান সীমান্ত অতিক্রম করে নাখচিভান অঞ্চলে প্রবেশ করে। এর একটি নাখচিভান বিমানবন্দরের টার্মিনাল ভবনে আঘাত হানে এবং অন্যটি শেকারাবাদ গ্রামের একটি স্কুলের কাছাকাছি বিস্ফোরিত হয়। এতে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বেসামরিক নাগরিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ঘটনার প্রতিবাদে বাকুতে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে আজারবাইজান সরকার। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আঞ্চলিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে ইরান দীর্ঘদিন ধরে আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছে যে, ইসরায়েল আজারবাইজানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে তেহরানের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে পারে। যদিও সম্প্রতি আজারবাইজান সরকার ইরানের বিরুদ্ধে তাদের ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছিল।

সংবাদ সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, ইরানের জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ জাতিগতভাবে আজারবাইজানি হওয়ায় এই অঞ্চলের রাজনৈতিক সম্পর্ক সব সময়ই সংবেদনশীল বলে বিবেচিত হয়ে থাকে।