যুদ্ধবিরতির আহ্বান চীন–রাশিয়া–ফ্রান্সের, ইরানের শর্ত আগ্রাসন বন্ধ


আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশের সময় : মার্চ ১০, ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ন

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত থামাতে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে চীন, রাশিয়া ও ফ্রান্স। তবে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে তেহরান স্পষ্ট শর্ত দিয়েছে— তাদের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো সামরিক আগ্রাসন চালানো যাবে না।

ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি বলেছেন, যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে কয়েকটি দেশের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে। তবে আলোচনায় অগ্রসর হওয়ার জন্য প্রথম শর্ত হিসেবে ইরান চায় তাদের ওপর সামরিক আক্রমণ বন্ধের নিশ্চয়তা।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই উত্তেজনা তীব্র হয়ে ওঠে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে থাকা মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা শুরু করে।

এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে সংঘাত দ্রুত আঞ্চলিক মাত্রা পায় এবং মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশ এতে প্রভাবিত হতে শুরু করে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার ফ্লোরিডায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত শিগগিরই শেষ হতে পারে। তার মতে, যুদ্ধ কয়েক দিনের মধ্যেই থেমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সংঘাতের প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান র‍্যাপিডান এনার্জি গ্রুপের হিসাবে, চলমান পরিস্থিতির কারণে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এটি ১৯৫৬–৫৭ সালের সুয়েজ খাল সংকটের সময়কার বিঘ্নের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তেহরান বর্তমানে অঞ্চলজুড়ে মার্কিন ঘাঁটি ও কৌশলগত স্বার্থকে লক্ষ্য করে সামরিক সক্ষমতার প্রায় ৬০ শতাংশ ব্যবহার করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হলেও উভয় পক্ষের অবস্থান এখনো কঠোর, ফলে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে তা অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

সূত্র: আল জাজিরা।