আওয়ামী লীগ দেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বানিয়েছিল: রাষ্ট্রপতি


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : মার্চ ১২, ২০২৬, ৫:৩২ অপরাহ্ন

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বাংলাদেশ দুর্নীতির কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচনার মুখে পড়ে এবং একসময় “দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন” হিসেবে পরিচিতি পায়। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন ও নতুন সংসদের যাত্রাকে দেশের গণতান্ত্রিক ধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের শাসন ব্যবস্থার অবসানের পর ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে ছাত্র–জনতার গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে।

তিনি জানান, ওই আন্দোলনে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত বা পঙ্গু হয়েছেন এবং পাঁচ শতাধিক মানুষ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। আহতদের চিকিৎসা সহায়তার জন্য সরকার ইতোমধ্যে ১ হাজার ২৪৩টি স্বাস্থ্য কার্ড প্রদান করেছে এবং গুরুতর আহত ১৩৭ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো হয়েছে।

শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণে দেশের ৬৪ জেলায় স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ এবং ঢাকায় ‘জুলাই অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে বর্তমান সংসদের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ নির্বাচনে জনগণের অংশগ্রহণকে তিনি গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।

ভাষণে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকার কথাও স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও রক্ষায় খালেদা জিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

রাষ্ট্রপতি সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি নিম্নআয়ের পরিবারকে সহায়তা করার পাশাপাশি নারী ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, ২০২৩–২৪ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৪–২৫ অর্থবছরে অর্থনীতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল হয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি কমে ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে।

ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে একটি অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশন গঠনের পরিকল্পনার কথাও জানান রাষ্ট্রপতি। পাশাপাশি পুঁজিবাজারে অনিয়ম তদন্ত ও সংস্কারের জন্য পৃথক কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি ভাষণে উল্লেখ করেন।