খামেনির স্ত্রী জীবিত, মৃত্যুর খবর ভিত্তিহীন: ইরানি গণমাধ্যম


আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশের সময় : মার্চ ১৩, ২০২৬, ১২:১৩ অপরাহ্ন

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্ত্রী মানসুরেহ খোজাস্তেহ বাগেরজাদেহ জীবিত আছেন—এমনটাই জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম। তার মৃত্যুর যে খবর বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়েছিল, তা সঠিক নয় বলে দাবি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার আইআরজিসি–সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এক প্রতিবেদনে জানায়, মানসুরেহ খোজাস্তেহ বাগেরজাদেহ এখনো জীবিত আছেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু অনলাইন প্রতিবেদনে তার মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হলেও তা যাচাইযোগ্য নয়।

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বৃহস্পতিবার তার প্রথম আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে মায়ের মৃত্যুর বিষয়ে কোনো উল্লেখ না করায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। এর পরপরই ফার্স নিউজ ওই দাবি খণ্ডন করে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন বলে তেহরানের একাধিক সূত্র জানিয়েছে। ওই ঘটনার পর কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, হামলার সময় তার স্ত্রীও নিহত হয়েছেন।

তবে খামেনি পরিবারের সদস্যদের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য খুব কমই প্রকাশ্যে আসে। মানসুরেহ খোজাস্তেহ বাগেরজাদেহ দীর্ঘদিন ধরে জনসমক্ষে খুব কম উপস্থিত হয়েছেন এবং ইরানের শাসক পরিবারের অন্যতম ব্যক্তিগত জীবনযাপনকারী সদস্য হিসেবে পরিচিত।

স্থানীয় কয়েকটি প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ওই হামলায় খামেনি পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য—যাদের মধ্যে পুত্রবধূ, জামাতা, কন্যা ও নাতি-নাতনিও ছিলেন—নিহত হতে পারেন। তবে এসব তথ্যের অনেকগুলোই স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে প্রথম জনসমক্ষে দেওয়া বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি চলমান সংঘাতে নিহত ইরানিদের জন্য প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি মিনাব অঞ্চলের একটি স্কুলে হামলায় নিহত শিশুদের কথাও উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে একজন সংবাদ উপস্থাপকের মাধ্যমে প্রচারিত ওই বিবৃতিতে তিনি ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক অবস্থানের রূপরেখা তুলে ধরেন এবং হরমুজ প্রণালিতে চলাচল সীমিত থাকার কথাও উল্লেখ করেন।

সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল।