ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে ইসরায়েলের এক গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ক্যাবিনেট বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অনুপস্থিতি নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে। কোনো পূর্বঘোষণা বা ব্যাখ্যা ছাড়া তার এই অনুপস্থিতি দেশটির রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা মহলে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
রোববার (১৫ মার্চ) অনুষ্ঠিত ওই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সাধারণত প্রধানমন্ত্রী নিজেই সভাপতিত্ব করেন। তবে এবারের বৈঠকে তার আসন খালি ছিল বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে। বৈঠকে জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী ও সামরিক কর্মকর্তারা আলোচনায় নেতৃত্ব দেন।
জর্ডানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়া নিউজ জানিয়েছে, চলমান সংঘাতের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্যই বৈঠকটি ডাকা হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী অনুপস্থিত থাকায় বিষয়টি অনেকের কাছেই অস্বাভাবিক মনে হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে লক্ষ্য করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা দ্রুত বেড়ে যায়। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানও বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। সংঘাতের এই পর্যায়ে ইসরায়েলের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রকাশ্য অনুপস্থিতি নিয়ে তাই নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
কয়েকটি আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রেক্ষাপটে নেতানিয়াহুর নিরাপত্তা ঘিরে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তিনি জনসমক্ষে আসছেন না। তবে এসব দাবির বিষয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
তেহরানভিত্তিক সংবাদ সংস্থা তাসনিম–এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সাম্প্রতিক এক হামলায় নেতানিয়াহুর অবস্থানস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তিনি গুরুতর আহত বা নিহত হতে পারেন। তবে ইসরায়েলি সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের দাবিকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়, নেতানিয়াহু সুস্থ আছেন এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে সীমিতভাবে প্রকাশ্যে আসছেন। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে তার অবস্থান ও কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না করার নীতিও অনুসরণ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও বার্তাকে কেন্দ্র করেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। সেখানে নেতানিয়াহুকে ভাষণ দিতে দেখা গেলেও কিছু ব্যবহারকারী ভিডিওটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে স্বাধীন ফ্যাক্ট-চেকাররা এটিকে প্রযুক্তিগত বা ক্যামেরা অ্যাঙ্গেলের প্রভাব বলে ব্যাখ্যা করেছেন।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাতের এই পর্যায়ে রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনেক সময় তাদের অবস্থান গোপন রাখা হয়। ফলে প্রকাশ্য উপস্থিতি কমে যাওয়াও অস্বাভাবিক নয়।
তবু গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতি এবং সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহকে ঘিরে ইসরায়েলের ভেতরে ও বাইরে নানা ধরনের গুঞ্জন অব্যাহত রয়েছে। এখন পর্যন্ত এসব দাবির স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
আপনার মতামত লিখুন :