ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে ইসরায়েল তার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সামরিক চাপের মুখে পড়েছে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। এই সংঘাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, অবকাঠামোগত ধ্বংস এবং জনজীবনে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টা ডেভিড স্যাকস এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে বলেন, যুদ্ধের কারণে ইসরায়েল বর্তমানে গুরুতর সামরিক ও মানবিক চাপে রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে প্রাণহানি বেড়েছে এবং অনেক মানুষ নিরাপত্তার কারণে ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়তে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে অব্যাহত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্যাকসের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ইতোমধ্যে ইরানের কিছু সামরিক সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত করতে সক্ষম হয়েছে। তাই পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আগেই কূটনৈতিক উদ্যোগ বা যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে ইসরায়েলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান দ্রুত শেষ করার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। দেশটির সেনাপ্রধান ইঙ্গিত দিয়েছেন, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে এপ্রিলের শুরুতে ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব পাসওভারের সময়ের কাছাকাছি এই অভিযান শেষ হতে পারে।
তবে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, সংঘাত শুরুর আগে যে কৌশলগত লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল—বিশেষ করে ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল বা উৎখাত করার সম্ভাবনা—তা এখন আগের তুলনায় অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
সূত্র: শাফাক নিউজ।
আপনার মতামত লিখুন :