ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপে আগ্রহী সংযুক্ত আরব আমিরাত, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : এপ্রিল ১, ২০২৬, ১০:২৮ অপরাহ্ন

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নতুন এক পর্যায়ে প্রবেশ করতে পারে, যেখানে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক ভূমিকা নেওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহের কেন্দ্রবিন্দু হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে এই অবস্থান ক্রমেই কৌশলগত গুরুত্ব পাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রণালিতে নৌ-চলাচল স্বাভাবিক রাখতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে একটি প্রস্তাব পাসের জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে আবুধাবি। এই উদ্যোগ কার্যকর হলে ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকা সামুদ্রিক পথটি বলপ্রয়োগের মাধ্যমে উন্মুক্ত করার পথ তৈরি হতে পারে।

আমিরাতের কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রণালিতে স্থাপিত নৌ-মাইন অপসারণসহ বিভিন্ন সামরিক কার্যক্রমে তারা অংশ নিতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আবু মুসা দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ নতুন করে সামনে এসেছে, যা সম্ভাব্য সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

এদিকে, যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব সীমান্ত নীতিতেও প্রতিফলিত হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানি নাগরিকদের জন্য প্রবেশ ও ট্রানজিটে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। পাশাপাশি দুবাইয়ে ইরান-সম্পর্কিত কিছু প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যা দুই দেশের সম্পর্কের অবনতির ইঙ্গিত বহন করে।

অঞ্চলজুড়ে কূটনৈতিক ভাষ্যও ক্রমশ কঠোর হচ্ছে। ইসরায়েল নতুন আঞ্চলিক জোট গঠনের ইঙ্গিত দিয়েছে, যেখানে কয়েকটি আরব দেশের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, সৌদি আরবও ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের বার্তা দিয়েছে, যা সাম্প্রতিক উত্তেজনাকে আরও তীব্র করছে।

বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের জ্বালানি সরবরাহ হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। ফলে এই পথ ঘিরে যে কোনো সামরিক বা রাজনৈতিক অস্থিরতা বৈশ্বিক বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়ে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা সংকটে রূপ নিতে পারে।