ইলিয়াস আলীর গুম: তদন্তে নতুন তথ্য, ধলেশ্বরীতে লাশ ফেলার অভিযোগ


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : এপ্রিল ২, ২০২৬, ১১:০০ পূর্বাহ্ন

দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী-এর গুম রহস্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে সাম্প্রতিক তদন্ত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে থাকা সাবেক সেনা কর্মকর্তা শেখ মামুন খালেদ-এর জিজ্ঞাসাবাদ থেকে কিছু তথ্য উঠে এসেছে বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে, যদিও এসব তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই সম্পন্ন হয়নি।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং অন্যান্য সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ইলিয়াস আলীর গুমের বিষয়ে নিজের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছেন। তবে ঘটনাটির পেছনের প্রেক্ষাপট, সম্ভাব্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রক্রিয়া নিয়ে কিছু তথ্য দিয়েছেন বলে জানা গেছে, যা বর্তমানে যাচাই-বাছাই চলছে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও অভিযোগ

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ইলিয়াস আলী টিপাইমুখ বাঁধ ও আঞ্চলিক ট্রানজিট ইস্যুতে সরব ভূমিকা রাখার কারণে রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছিলেন—এমন দাবি জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে। তবে এসব বক্তব্য এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়াও পাওয়া যায়নি।

কিছু সূত্রের দাবি, ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাতে ঢাকার বনানী এলাকা থেকে ইলিয়াস আলী ও তার গাড়িচালককে তুলে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাকে একটি নিরাপত্তা সংস্থার স্থাপনায় নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। আরও দাবি করা হচ্ছে, ১৭ থেকে ২০ এপ্রিলের মধ্যে কোনো এক সময়ে তাকে হত্যা করে ধলেশ্বরী নদীতে ফেলে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তবে এই তথ্যের কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ এখনো মেলেনি।

তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া

শেখ মামুন খালেদকে একাধিক দফায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থার ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং কিছু কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

অনিশ্চয়তার দীর্ঘ ছায়া

ইলিয়াস আলীর নিখোঁজ হওয়ার পর কেটে গেছে এক দশকের বেশি সময়। তিনি জীবিত নাকি নিহত—এই প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য উত্তর আজও পাওয়া যায়নি। তার পরিবার, বিশেষ করে তার স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা বারবার এ বিষয়ে রাষ্ট্রের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়ে আসছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত গুমের ঘটনাগুলোর একটি, যা এখনো অমীমাংসিত। নতুন তথ্য সামনে এলেও সেগুলোর সত্যতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন।